ধামরাইয়ে হবে স্টেডিয়াম, প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
দেশের প্রতিটি উপজেলায় খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ ও ক্রীড়ার মানোন্নয়নে একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার ধামরাই উপজেলাতেও একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুরে যুবক সমিতির আয়োজনে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধামরাইয়েও একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কালামপুর যুবক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ফাইনালে মুখোমুখি হয় প্যারাডাইস এফসি সাটুরিয়া ও সোনালী অতীত ধামরাই। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ দেখতে বিকেল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীরা। একপর্যায়ে মাঠের চারপাশ দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ। ম্যাচের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মামুনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। নির্ধারিত সময়ে উভয় দল গোল করতে না পারায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে প্যারাডাইস এফসি সাটুরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে সোনালী অতীত ধামরাই দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া উভয় দলকে একটি করে মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণরা। তাদের মতে, ধামরাইয়ে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মিত হলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহও আরও বৃদ্ধি পাবে।















