বনানীতে কথিত পুলিশ সোর্স ‘ফর্মা শহীদ’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়: ৪ শ নেতাকে ফাঁসানোর দাবি
রাজধানীর বনানী এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারী হিসেবে পরিচিত এবং পুলিশের কথিত সোর্স শহীদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘ফর্মা শহীদ’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে।
জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে বনানীর গোডাউন বস্তি এলাকা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে শহীদের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরেন মো. ফারুক নামে এক ভুক্তভোগী। ফারুকের দাবি, পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগ নিয়ে শহীদ এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন।
লাইভে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ফেসবুক ভিডিও বার্তায় ফারুক অভিযোগ করেন, শহীদ তার মালিকানাধীন ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং গায়ের জোরে জায়গা দখল করে নিয়েছেন। দখল করা জমি উদ্ধার ও আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত না দিলে শহীদের মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির গোপন ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ফারুককে বলতে শোনা যায়, “শহীদ তুই যদি মিমাংসা চাস, তবে আমার জমি উদ্ধার করে দে এবং আমার ফার্ম যেভাবে ছিল সেভাবে ফেরত দে। তুই আমারে মানহানির মামলার ভয় দেখাস? আমি তোর নামে ৫টি মামলা রেডি করে রেখেছি। তোর সব কুকর্মের ভিডিও আমার কাছে আছে।
“চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব: ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, শহীদ বনানীর গোডাউন বস্তির সাধারণ বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করেন। সেই টাকা দিয়ে মাদক সেবন ও এলাকায় মাতলামি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একসময় ফারুক ও শহীদ ব্যবসায়িক অংশীদার থাকলেও শহীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ বনানী থানা যুবলীগের সক্রিয় নেতা ছিল। পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে ৫ই আগষ্টের আগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দিতেন। বর্তমানে সে লেবাস বদলে বিএনপি নেতা বনে গেছে। তাকে পুনর্বাসন করেছে বনানী থানাধীন ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির অন্তর্গত ‘জ’ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস। একজন যুবলীগ নেতার বিএনপি নেতা বনে যাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে ত্যাগী নেতাদের মধ্যে।
পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম শহীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বনানী থানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শহীদের বিরুদ্ধে এমন মৌখিক অভিযোগের কথা তারা শুনেছেন। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বনানীর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে এই ‘ফর্মা শহীদ’-এর দৌরাত্ম্য নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতি দ্রুত এই চিহ্নিত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।













