শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বনানীতে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, মূল কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
বনানীতে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, মূল কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি

রাজধানীর বনানী থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীর বিচরণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা, হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সরবরাহ এবং সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতার কারণে তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত মূল মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনানী থানার আওতাধীন কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তিসহ কয়েকটি এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকেও গোপনে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে হোম ডেলিভারিতে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ইয়াবার আসক্তি বাড়ছে। এতে পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে বলে তাদের আশঙ্কা।

 

এলাকাবাসীর কয়েকজন অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও কথিত সোর্সদের সঙ্গে মাদক কারবারিদের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আইনের আওতার বাইরে থেকে গেলেও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে বেশি অভিযান পরিচালিত হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাদক উদ্ধারের ঘটনায়ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তারা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো সদস্য বা সোর্সের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

 

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং মূল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা যেকোনো ব্যক্তি, সে পুলিশ সোর্স হোক বা অন্য কেউ, তাদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাহলেই বনানী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত  ওসির মতবিনিময়

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
গুরুদাসপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত  ওসির মতবিনিময়
নাটোরের গুরুদাসপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আঃ হান্নান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম এবং থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা গুরুদাসপুরে মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
গুরুদাসপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করে নবাগত ওসি মোঃ আঃ হান্নান বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধ নির্মূল করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে সাংবাদিকরা সবসময় পুলিশের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। মানবিক সমাজ গঠন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ, ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল ইসলাম, সাংবাদিক আলী আককাছ, সাজেদুর রহমান, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, জুয়েল হাসান টিপু,সজিবুর রহমান সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে ওসি মোঃ আঃ হান্নান বলেন, তিনি গত ১৫ আগস্ট গুরুদাসপুর থানায় যোগদান করেছেন। যোগদানের পর এ পর্যন্ত ১৩ জন মাদকসেবী ও ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকসেবী শনাক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধে বালিকাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে দুই ঘণ্টা করে বিশেষ নজরদারি, মহাসড়কে রাতের বিশেষ টহল জোরদার, থানার সামনে ডিউটি অফিসারের নম্বর প্রদর্শন এবং নিয়মিত ওপেন হাউজ ডেসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আগামীতে প্রতি মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান নবাগত ওসি মোঃ আঃ হান্নান।

গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল কুষ্টিয়া

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:  প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল কুষ্টিয়া

Screenshot

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াই ঘাট বড় বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গড়াই নদীর দুই তীরে মানুষের ঢল নামে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শক উপভোগ করেন নৌকার দৌড়। বৈঠার ছন্দ আর প্রতিযোগী নৌকার দ্রুতগতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ, পাবনা, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিযোগী দল অংশ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতটি নৌকা প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করেছে। দূরদূরান্ত থেকে প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীরা আসায় আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রথম স্থান অর্জনকারী দল পাবে Yamaha FZ Version-2 মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে রয়েছে Pulsar 150, তৃতীয় পুরস্কার Hero 100 এবং চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে Walton ফ্রিজ। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক নৌকার জন্য রয়েছে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।

আয়োজক কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫০ হাত হতে হবে। সিঙ্গেল বডি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানানো হয়েছে।

নৌকাবাইচের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। উদ্বোধক ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আনছার আলী প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. লুফকর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিদের বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এরপর একে একে প্রতিযোগী নৌকাগুলো গড়াইয়ের বুকে ছুটে চলে। নৌকার গতি ও বৈঠার নিখুঁত ছন্দ দেখতে নদীর দুই পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রামবাংলার প্রাচীন নৌকাবাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করছেন মুহায়াদ রেজা ফাহিম, পরিচালক, দি চেঞ্জার অব কমার্স।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে ২৩ বস্তা সার জব্দ

মোহাম্মদ আরমান, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে ২৩ বস্তা সার জব্দ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ২৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যানগাড়িতে করে ২৩ বস্তা ডিএপি সার বকশীগঞ্জ থেকে ইসলামপুর উপজেলায় নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে টুপকারচর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্যানগাড়িতে থাকা ২৩ বস্তা সার জব্দ করেন ইউএনও।পরে জব্দ করা সারগুলো বকশীগঞ্জ থানায় পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, ‘সারগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।