যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর হতে হবে
একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার যুবসমাজ। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, দেশ গড়বে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের একটি অংশের তরুণ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাং এবং নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ছে।
মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, ধ্বংস করে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রকে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কিংবা মাদকসেবনজনিত অপরাধের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—মাদকের উৎস কোথায়, কারা এই ভয়ংকর ব্যবসার নেপথ্যে এবং কেন এই চক্র পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না?
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অনলাইন প্রতারণা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং নৈতিক শিক্ষার সংকট নতুন প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ সব জায়গায় দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধের চর্চা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন।
শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিবারে সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। বেকারত্ব, হতাশা ও সামাজিক বৈষম্যও অনেক সময় অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সেই উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন, জবাবদিহি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা আরও জোরদার করা জরুরি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিক সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন।
আমাদের মনে রাখতে হবে, আজকের একটি ভুল সিদ্ধান্ত একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে। তাই এখনই সময় কঠোর অবস্থান নেওয়ার। যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারলে দেশ রক্ষা পাবে, ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে।
একটি মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।
মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক সকালের বার্তা











