কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর মাঠ থেকে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার;শিয়ালে খেল মাথা ও কোমরের মাংস
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কামালপুর সাতবিলি মাঠ থেকে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা রাজা (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্জন মাঠের সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় মাছ ধরার জাল পেঁচানো ছিল এবং মাথা ও কোমরের মাংস শিয়ালে খেয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছিল বলে জানা গেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিহত রাজা দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মো. ইমান বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে রাজা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে বুধবার সকালে কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় সাতবিলি মাঠের নির্জন সড়কের পাশে কয়েকটি শিয়ালকে একটি বস্তু নিয়ে টানাটানি করতে দেখেন। তিনি কাছে গেলে শিয়ালগুলো পালিয়ে যায়। পরে ঘাস ও খড়ের আড়ালে পড়ে থাকা মরদেহটি দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের কৃষকরা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজা অত্যন্ত পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং সবার সাথে আন্তরিকভাবে হেসে কথা বলা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। এমন একজন সজ্জন যুবকের মরদেহ এভাবে গলার জাল পেঁচানো ও বন্য শিয়ালে খাওয়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় পুরো কামালপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি পরিবার তাদের প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা, আর এই মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিন আগের। নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে। একই সঙ্গে ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নির্মম হত্যাকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিআইডি টিমের তদন্তের পর মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।













