জিয়ানগরে আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের অভিযোগ
ছবি- সকালের বার্তা
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ৪ নম্বর ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে উক্ত জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মামলায় মোঃ হেমায়েত মাতুব্বরের স্ত্রী বিউটি আক্তার (৪৫) বাদী হয়ে মৃত মানিক ফকিরের ছেলে আঃ রব ফকির (৬০), তার ছেলে মোঃ শাকিল ফকির (৩৫) সহ সাতজনকে বিবাদী করেন।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে হেমায়েত মাতুব্বর ও আঃ রব ফকিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে হেমায়েত মাতুব্বর এর স্ত্রী বিউটি আক্তার আদালতের শরণাপন্ন হন। এর প্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আঃ রব ফকির ও তার ছেলে মোঃ শাকিল ফকির, মাসুদ ফকির, মেহেদি ফকিরসহ ৩০/৪০ জন মিলে শনিবার (০২ মে) ভোররাতে ওই জমিতে জোরপূর্বকভাবে ঘর নির্মাণ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিউটি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী ২০০৩ সালে আব: রব ফকির এর ভাগ্নের থেকে প্রায় ৮ শতক জমি ক্রয় করেছেন, যার পুরোটা এখনো আমরা বুঝে পাইনি। জমির সমাধান চাইলে আঃ রব ফকির ও তার ছেলেরা আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং জমি নিজেদের বলে দাবি করে। পরে আমি আদালতের মাধ্যমে সমাধানের জন্য আবেদন করলে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে তারা রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করেছে।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আঃ রহিম ফকিরের ছেলে মোঃ আল আমিন ফকির বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব জমিতেই ঘর নির্মাণ করেছি। যে জমির বিষয়ে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, সেটি এই খতিয়ানের জমি নয়। তাছাড়া আমরা রাতে নয়, সকালে ঘর নির্মাণ করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমহব্বত খান জানান, “এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
















