ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ চুরি: গোবিন্দগঞ্জ থেকে তিন চোরসহ গ্রেপ্তার ৪
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আফজাল হোসেনকে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, অর্থনৈতিক লেনদেন, প্রশাসক বদলি ও বিভিন্ন অনিয়মের যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোকে তিনি অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এক প্রতিবাদলিপিতে ইউপি সচিব আফজাল হোসেন বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ বা যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে সরকারি বিধিবিধান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিষদের রাজস্ব আদায়, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সেবা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়মেই পরিচালিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রশাসক বদলি কিংবা কোনো আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন সংক্রান্ত যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেছেন আফজাল হোসেন। তার দাবি, প্রশাসনিক পদায়ন বা বদলির বিষয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই এবং এ ধরনের কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তার দীর্ঘদিনের চাকরি ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়—এমন সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং তার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
আফজাল হোসেন প্রকাশিত সংবাদগুলোর সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেকোনো তদন্ত বা যাচাই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, সরকারি নথি ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আফজাল হোসেন।
‘মানুষের কল্যাণে, সমাজের উন্নয়নে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা, পরিবেশ, ক্রীড়া, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্ট।
গত ৩০ মে ২০২৬ সালে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট দুই বছর মেয়াদি কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। কমিটিতে আশরাফুল ইসলাম বিকট সভাপতি এবং সোহেল রানা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে গত ২১ আগস্ট বাঁশকান্দা সরকার বাড়ি মোড়ে ট্রাস্টের নিজস্ব কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি। শিক্ষাক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃতী শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের একমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জানকীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদকে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোছা. রাবেয়া খাতুনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে ট্রাস্ট।
পরিবেশ রক্ষায়ও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে সংগঠনটি। মির্ধাপাড়া মোড় থেকে টানাব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের পাশে এবং ঐতিহ্যবাহী জানকীপুর ঠাকুরপাড়া ঈদগাহ মাঠ ও জামে মসজিদের সামনে উন্নত প্রজাতির কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বকুল ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়।
রাতের বেলায় মানুষের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নয়টি স্থানে সোলার লাইট স্থাপন করেছে ট্রাস্ট। স্থানগুলো হলো—মির্ধাপাড়া মোড়, নূরগঞ্জ বাজার, সরকার বাড়ি মোড়, ফকিরবাড়ি মোড়, মিষ্টারের দোকান, ঠাকুরপাড়া মোড়, নিলক্ষিয়া চৌরাস্তার মোড়, পঁচার দোকান ও টানাব্রিজ। ভবিষ্যতে প্রতিটি সোলার লাইটের সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টের সভাপতি।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে উন্নতমানের ২৫টি ফুটবল বিতরণ করেছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছে ট্রাস্ট।
অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। জানকীপুর পুরাতন বাঁশকান্দা এলাকার অসুস্থ দুলাল মিয়ার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট ট্রাস্টের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। বর্তমানে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন দুলাল মিয়ার উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে ট্রাস্ট।
এদিকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৩ অক্টোবর নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের পাগলাপাড়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় একটি উন্নতমানের সাউন্ড বক্স প্রদান করা হয়েছে। বিকেলে বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়ে ট্রাস্টের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বিকটের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে সাউন্ড বক্সটি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সহ-সভাপতি রাসেল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক রুবেল, প্রচার সম্পাদক রাব্বি রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আকাশ ইসলাম, সদস্য জাহিদ, শেখ খোকন, জুমান, আলতাফসহ আরও অনেকে।
সাউন্ড বক্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বিকট বলেন, “আমাদের এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, “বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্ট একটি অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠন। মানুষের সেবা ও সামাজিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে বকশীগঞ্জ উপজেলা, জামালপুর জেলা এবং একদিন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা, পরিবেশ, ক্রীড়া, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা তৈরি হয়েছে।