সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ সময় হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করাসহ আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণেরও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নেন এবং দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে ছয় হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মোট ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনকালে ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে সাতজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত। বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়াই নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসকেরা হলেন—ডা. সমরজিত সাহা, যিনি ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে; ডা. তুহিবুর রহমান, ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে; ডা. যোবায়ের ইবনে সামস, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে; ডা. ফারহান ইমতিয়াজ, ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে এবং ডা. সুচেতা ভট্টাচার্য, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

১৫১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে হাসপাতাল

পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি লক্ষ্য করলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।

হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভাষ্য, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলো কন্ডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্স সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকায়নের উদ্যোগ

স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হলেও কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, মানসম্মত ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

সন্তানের জন্মদিনের আনন্দকে মানবসেবায় উৎসর্গ এবং প্রয়াত দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বাদ আসর থেকে বাদ এশা পর্যন্ত নাগরপুর বাজারে অবস্থিত মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম. এ. মান্নানের ছোট ছেলে মাহিরের চতুর্থ জন্মবার্ষিকী এবং তাঁর দাদা, বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক অনুরাগী মরহুম আইয়ূব আলীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা (ব্লাড সুগার), রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ওজন পরিমাপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে এসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. এম. এ. মান্নান। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ ও স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজক ডা. এম. এ. মান্নান বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। সন্তানের জন্মবার্ষিকীকে মানুষের সেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা এবং মরহুম দাদার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলে মাহির, বড় ছেলে মুকতাদির এবং ভাতিজি মাছুমার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পাশাপাশি মরহুম দাদা আইয়ূব আলী, নানা আজমত আলী, চাচা কাইয়ূম এবং প্রয়াত দাদি ও নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র নাগরপুর বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করা।

মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

আসাদুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে সাফল্য ধরে রেখে আবারও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এবার কলেজটি থেকে মোট ১৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পাসের হার ৬২ শতাংশ। বস্তুনিষ্ঠ ও গুণগত শিক্ষার ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষায় উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে অবস্থান তৈরি করে আসছে। শুধু উপজেলা পর্যায়ই নয়, ইতিপূর্বে ২০০৯, ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যেও প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব দেখিয়েছিল কলেজটি। তারই সুসংহত ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও উপজেলার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলো সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।
প্রতিষ্ঠানের এই চমকপ্রদ সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- “আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আল্লাহর অশেষ রহমতে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফলের জন্য আমি সমগ্র এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজনদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

মোঃ জুয়েল মিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

 

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনালে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় জোরপূর্বক দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঃ কাদের ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ রাজা মিয়া (৫৬)।

​বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অনুমোদিত মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর থেকে তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন ককটেল, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তা দখলের চেষ্টা চালায়।

​অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় আঃ কাদের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনাল এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। একই সময়ে ২ নম্বর অভিযুক্ত সুমন ধারালো চাপাতি দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ভাঙচুর ও তছনছ করেন। হামলাকারীরা সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কার্যালয়টি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে কেউ প্রবেশ করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।

​এ ঘটনায় নিজের ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদেরের মতামত চাওয়া হলে তিনি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।

​মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।