সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার বিচার না হলে তরুণ প্রজন্মের ছাত্ররা রাজনীতিতে উৎসাহিত হবেনা। রাজনীতিতে তারা কেন আসবে, কেন দল করবে। একারনে রাজনীতিবিদসহ রাস্ট্রকে তাঁদের নিরাপত্তা ও রাজনীতির স্বচ্ছ মাঠ নিশ্চিত করতে হবে। তখনই প্রতিহিংসার বদলে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা বিষয়টিকে রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত উল্লেখ করে আরো বলেন, শাকিল ২৪এর আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল প্রসংশনীয়। তার দক্ষ নেতৃত্ব অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। একারনে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। শাকিল হত্যার পর রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্ব এখন অশনি সংকেত।
বৃহষ্পতিবার নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার পর তার পরিবারকে শান্তনা দিতে গিয়ে মন্ত্রী পুতুল তরুণ রাজনীতি নিয়ে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশকে এ বার্তাদেন।
গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল হোসেন (৩০) দূবৃত্তদের হামলার শিকার হন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে মারা যান শাকিল। মৃত্যুর ৪দিন পর আজ বৃহষ্পতিবার বিকালে পরিবারকে শান্তনা দিতে মন্ত্রী আসেন।
মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শাকিলের বাবা-মাসহ স্বজনরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। শাকিলের মা মন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন। একই সাথে ছেলে হত্যার বিচার প্রার্থনা করেন মন্ত্রীর কাছে। এক পর্যায়ে মন্ত্রীকে নিজের বড় মেয়ে সম্বোধন করেন নিহত শাকিলের মা।
তাদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মন্ত্রী আশ্বাস্থ করে বলেন, হামলার সাথে যারাই জড়িত থাকুন, তাঁরা যত প্রভাবশালীই হোক সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, মেয়ে সম্বোধন করায় তার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।
শাকিল হত্যার ঘটনাটি যাতে অন্যদিকে মোড় না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন তিনি। যে কোন মূল্যে শাকিল হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারলে তাঁর বাবা-মাকে মূখ দেখাতে পারবোনা। মন্ত্রী আরো বলেন, শাকিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় দেখতে গিয়েছিলেন। তার চিকিৎসাসহ পরিবারের খোজ খবর রাখাসহ মামলা প্রক্রিয়া নিয়েও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মন্ত্রী শাকিলের বড়ভাবীকে চাকরি দেওয়াসহ পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাসদেন।
শাকিলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা অগ্রগতির ধীরগতি এবং দীর্ঘদিনেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে । এসময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশদেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী গুরুদাসপুরসহ জেলা জুড়ে হত্যার রাজনীতি চলছে। উদাহরন টেনে তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালে বনপাড়া বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যা হয়। সেই মামলার বিচার হয়নি। আসামীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছেন । এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদল নেতা শাকিল হোসেন খুন হলো। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তাঁর সাথে আলোচনা করে এসব হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রী শাকিলের বাড়িতে আসেন। তখন ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। ভিজা অবস্থায় মন্ত্রী শাকিলের বাড়িতে প্রায় ১ঘন্টা সময় কাটান। তার আগে শাকিলের কবর জিয়ারত করেন।
এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান যুগ্ম-আহবায়ক বাবুল চৌধুরী জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভাপতি ওমর আলী শেখ পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভাপতি মো. দুলাল সরকারসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসেছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দলঃ
মন্ত্রী আসার আগেই ছাত্রদলের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল শাকিলের পরিবারের সাথে সাক্ষাত ও কবর জিয়ারত করেন। এসময় সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক একরামূল আলমসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন- শাকিল আহত হওয়ার পর থেকেই তারা হাসপাতালে ছিলেন। তার সুচিকিৎসা এবং মৃত্যুর পর মামলা প্রক্রিয়া এবং আসামী গ্রেপ্তারে ভূমিকা ছিল ছাত্রদলের। তবে গুরুদাসপুর থানার ওসির ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক। একারনে স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে মামলার অগ্রগতি, আসামী গ্রেপ্তার ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্র। প্রেক্ষিতে ওসি স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছে।এখন মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
ছাত্রদল সভাপতি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রেখেছি। সুষ্ঠু তদন্তে শাকিলের হত্যাকারী, ইন্ধনদাতা এবং অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম সংবাদকর্মীদের বলেন,- তাঁর ছেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবীব সরকার ও ইরফান নেওয়াজ নামে দুই যুবকের নাম তার ভাগিনার কাছে বলে গেছে। তারা আমেরিকা প্রবাসী রাসেল হোসেনের অনুসারী। মামলায় তাদের নাম উল্লেখ হলেও পুলিশ তাদের নাম এজাহার থেকে বাদ দিয়েছে। পুলিশের হাতে আটক ও রিমান্ডে থাকা সংসদ সদস্ আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তাঁর ছেলে হত্যার সাথে জড়িত কিনা তা পুলিশ ভালো বলতে পারবে। তিনি দ্রুত ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।