সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ছাত্রদল নেতা শাকিল  হত্যার বিচার না হলে তরুণরা রাজনীতিতে উৎসাহিত হবেনা- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি, প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
ছাত্রদল নেতা শাকিল  হত্যার বিচার না হলে তরুণরা রাজনীতিতে উৎসাহিত হবেনা- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার বিচার না হলে তরুণ প্রজন্মের ছাত্ররা রাজনীতিতে উৎসাহিত হবেনা। রাজনীতিতে তারা কেন আসবে, কেন দল করবে। একারনে রাজনীতিবিদসহ রাস্ট্রকে তাঁদের নিরাপত্তা ও রাজনীতির স্বচ্ছ মাঠ নিশ্চিত করতে হবে। তখনই  প্রতিহিংসার বদলে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা বিষয়টিকে রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত উল্লেখ করে আরো বলেন, শাকিল ২৪এর আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল প্রসংশনীয়। তার দক্ষ নেতৃত্ব অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। একারনে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। শাকিল হত্যার পর রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্ব এখন অশনি সংকেত।
বৃহষ্পতিবার নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার পর তার পরিবারকে শান্তনা দিতে গিয়ে মন্ত্রী পুতুল  তরুণ রাজনীতি নিয়ে  সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশকে এ বার্তাদেন।
গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল হোসেন (৩০) দূবৃত্তদের হামলার শিকার হন। বাংলাদেশ  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে  মারা যান শাকিল। মৃত্যুর ৪দিন পর  আজ বৃহষ্পতিবার বিকালে পরিবারকে শান্তনা দিতে মন্ত্রী আসেন।
মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শাকিলের বাবা-মাসহ স্বজনরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। শাকিলের মা মন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন। একই সাথে ছেলে হত্যার বিচার প্রার্থনা করেন মন্ত্রীর কাছে। এক পর্যায়ে মন্ত্রীকে নিজের বড় মেয়ে সম্বোধন করেন নিহত শাকিলের মা।
তাদের দাবীর প্রতি সমর্থন  জানিয়ে মন্ত্রী আশ্বাস্থ করে বলেন, হামলার সাথে যারাই জড়িত থাকুন, তাঁরা যত প্রভাবশালীই হোক সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, মেয়ে সম্বোধন করায় তার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।
শাকিল হত্যার ঘটনাটি যাতে অন্যদিকে মোড় না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন তিনি। যে কোন মূল্যে শাকিল হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারলে তাঁর বাবা-মাকে মূখ দেখাতে পারবোনা। মন্ত্রী আরো বলেন, শাকিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় দেখতে গিয়েছিলেন। তার চিকিৎসাসহ পরিবারের খোজ খবর রাখাসহ মামলা প্রক্রিয়া নিয়েও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মন্ত্রী শাকিলের বড়ভাবীকে চাকরি দেওয়াসহ পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাসদেন।
শাকিলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা অগ্রগতির ধীরগতি এবং দীর্ঘদিনেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে । এসময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশদেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী গুরুদাসপুরসহ জেলা জুড়ে হত্যার রাজনীতি চলছে। উদাহরন টেনে তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালে বনপাড়া বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যা হয়। সেই মামলার  বিচার হয়নি। আসামীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছেন । এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদল নেতা শাকিল হোসেন খুন হলো। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তাঁর সাথে আলোচনা করে এসব হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বৃহষ্পতিবার  বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রী শাকিলের বাড়িতে আসেন। তখন ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। ভিজা অবস্থায় মন্ত্রী শাকিলের বাড়িতে প্রায় ১ঘন্টা সময় কাটান। তার আগে শাকিলের কবর জিয়ারত করেন।
এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান যুগ্ম-আহবায়ক বাবুল চৌধুরী জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভাপতি ওমর আলী শেখ পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভাপতি মো. দুলাল সরকারসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসেছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দলঃ
মন্ত্রী আসার আগেই ছাত্রদলের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি  রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল শাকিলের পরিবারের সাথে সাক্ষাত ও কবর জিয়ারত করেন। এসময় সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক একরামূল আলমসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন- শাকিল আহত হওয়ার পর থেকেই তারা হাসপাতালে ছিলেন। তার সুচিকিৎসা এবং মৃত্যুর পর মামলা প্রক্রিয়া এবং আসামী গ্রেপ্তারে ভূমিকা ছিল ছাত্রদলের। তবে গুরুদাসপুর থানার ওসির ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক। একারনে স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে মামলার অগ্রগতি, আসামী গ্রেপ্তার ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্র। প্রেক্ষিতে ওসি স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছে।এখন মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
ছাত্রদল সভাপতি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রেখেছি। সুষ্ঠু তদন্তে শাকিলের হত্যাকারী, ইন্ধনদাতা এবং অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম সংবাদকর্মীদের বলেন,- তাঁর ছেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  হাবীব সরকার ও ইরফান নেওয়াজ নামে দুই যুবকের নাম তার ভাগিনার কাছে বলে গেছে। তারা আমেরিকা প্রবাসী রাসেল হোসেনের অনুসারী। মামলায় তাদের নাম উল্লেখ হলেও পুলিশ তাদের নাম এজাহার থেকে বাদ দিয়েছে। পুলিশের হাতে আটক ও রিমান্ডে থাকা  সংসদ সদস্ আব্দুল আজিজের ছেলে  নুরুজ্জামান মিন্টুর তাঁর ছেলে হত্যার সাথে জড়িত কিনা তা পুলিশ ভালো বলতে পারবে। তিনি দ্রুত ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।

সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

সন্তানের জন্মদিনের আনন্দকে মানবসেবায় উৎসর্গ এবং প্রয়াত দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বাদ আসর থেকে বাদ এশা পর্যন্ত নাগরপুর বাজারে অবস্থিত মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম. এ. মান্নানের ছোট ছেলে মাহিরের চতুর্থ জন্মবার্ষিকী এবং তাঁর দাদা, বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক অনুরাগী মরহুম আইয়ূব আলীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা (ব্লাড সুগার), রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ওজন পরিমাপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে এসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. এম. এ. মান্নান। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ ও স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজক ডা. এম. এ. মান্নান বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। সন্তানের জন্মবার্ষিকীকে মানুষের সেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা এবং মরহুম দাদার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলে মাহির, বড় ছেলে মুকতাদির এবং ভাতিজি মাছুমার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পাশাপাশি মরহুম দাদা আইয়ূব আলী, নানা আজমত আলী, চাচা কাইয়ূম এবং প্রয়াত দাদি ও নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র নাগরপুর বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করা।

মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

আসাদুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে সাফল্য ধরে রেখে আবারও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এবার কলেজটি থেকে মোট ১৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পাসের হার ৬২ শতাংশ। বস্তুনিষ্ঠ ও গুণগত শিক্ষার ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষায় উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে অবস্থান তৈরি করে আসছে। শুধু উপজেলা পর্যায়ই নয়, ইতিপূর্বে ২০০৯, ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যেও প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব দেখিয়েছিল কলেজটি। তারই সুসংহত ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও উপজেলার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলো সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।
প্রতিষ্ঠানের এই চমকপ্রদ সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- “আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আল্লাহর অশেষ রহমতে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফলের জন্য আমি সমগ্র এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজনদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

মোঃ জুয়েল মিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

 

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনালে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় জোরপূর্বক দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঃ কাদের ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ রাজা মিয়া (৫৬)।

​বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অনুমোদিত মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর থেকে তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন ককটেল, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তা দখলের চেষ্টা চালায়।

​অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় আঃ কাদের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনাল এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। একই সময়ে ২ নম্বর অভিযুক্ত সুমন ধারালো চাপাতি দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ভাঙচুর ও তছনছ করেন। হামলাকারীরা সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কার্যালয়টি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে কেউ প্রবেশ করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।

​এ ঘটনায় নিজের ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদেরের মতামত চাওয়া হলে তিনি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।

​মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।