সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

২২ দিনের কর্মহীনতা শেষে মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেরা, ইলিশের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

মোঃ সবুজ ভোলা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
২২ দিনের কর্মহীনতা শেষে মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেরা, ইলিশের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে। জাল, নৌকা আর বুকভরা আশা নিয়ে নদীতে নেমেছেন উপজেলার প্রায় ৪০-৫০ হাজার জেলে। দীর্ঘ কর্মহীনতা, ধারদেনা ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। এখন তাঁদের একটাই প্রত্যাশা নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়বে, বিক্রির টাকায় শোধ হবে পুরোনো দেনা, আর সংসারে ফিরবে স্বস্তি।

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে টানা ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কর্মহীন সময় পার করতে হয়েছে জেলেদের। আয়-রোজগার বন্ধ থাকলেও থেমে থাকেনি সংসারের খরচ। নৌকা ও জালের রক্ষণাবেক্ষণ, খাবার কেনা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক জেলেকেই ধারদেনা করতে হয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন জেলেরা। কেউ নৌকা মেরামত করেছেন, কেউ জাল গুছিয়েছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভাব-অনটন কাটিয়ে ওঠার আশায় নতুন উদ্যমে যাত্রা করেছেন নদীর বুকে। তবে তাঁদের এই প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনিশ্চয়তাও। নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে তাঁদের আগামী দিনের আর্থিক স্বস্তি।

ধারদেনায় জর্জরিত জেলেদের চোখে নতুন স্বপ্ন

ভোলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন তাঁদের অনেকেরই কেটেছে চরম আর্থিক সংকটে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে গেলেও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে তাঁদের অব্যাহতি মেলেনি। বাধ্য হয়ে অনেকে পরিচিতজন ও মহাজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে সংসার চালিয়েছেন।

জেলে মোসলেউদ্দিন বলেন, “২২ দিন মাছ ধরতে না পেরে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন নদীতে নেমেছি, আশা করছি ভালো মাছ পাব। ইলিশ বেশি ধরা পড়লে দেনা শোধ করে পরিবারের খরচ চালাতে পারব।”

জেলে অনিক চন্দ্র বলেন, “আমাদের জীবিকা নদীর মাছের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞার সময় আয় বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এখন অনেক আশা নিয়ে নদীতে নেমেছি। আমরা চাই, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাক এবং মাছের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হোক।”

নিষেধাজ্ঞা মানলেও ক্ষতির শঙ্কায় জেলেরা

নিষেধাজ্ঞার সুফল নিয়ে আশাবাদী হলেও কিছু জেলের মনে রয়েছে উদ্বেগ। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কিছু অসাধু জেলে গোপনে ইলিশ শিকার করেছেন। এতে আইন মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাঁদের মতে, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।

জেলে নুরে আলম বলেন, “আমরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিছু লোক মাছ ধরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আমরা যারা আইন মেনে চলেছি, তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হই। নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলে আমাদের কষ্ট কিছুটা কমবে।”

ইলিশ সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান মৎস্য বিভাগের

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ায় জেলেরা পুনরায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ পেয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ কাজ করেছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা আবার মাছ ধরতে পারবেন। ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। এতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।”

নদীতে ইলিশের প্রাচুর্যই ফেরাতে পারে জেলেদের মুখের হাসি

মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার বুকে এখন জেলেদের ব্যস্ততা, আর তাঁদের চোখেমুখে নতুন দিনের প্রত্যাশা। দীর্ঘ ২২ দিনের কর্মহীনতা ও আর্থিক সংকট পেছনে ফেলে তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন ভালো মাছ পাওয়ার। তবে সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা, মাছের বাজারদর এবং নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশের ওপর।

জেলেদের প্রত্যাশা, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে তাঁরা পুরোনো দেনা শোধ করার পাশাপাশি পরিবারের নিত্যদিনের চাহিদা মেটাতে পারবেন। ফিরবে সংসারে স্বস্তি, কমবে অভাব-অনটন, আর নতুন করে আশার আলো দেখবে নদীনির্ভর হাজারো পরিবার।

এখন তাই ভোলার জেলেদের দৃষ্টি নদীর দিকে। তাঁদের কাছে প্রতিটি জালভর্তি ইলিশ মানে শুধু মাছ নয়, বরং ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশা এবং নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা।

সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

সন্তানের জন্মদিনের আনন্দকে মানবসেবায় উৎসর্গ এবং প্রয়াত দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বাদ আসর থেকে বাদ এশা পর্যন্ত নাগরপুর বাজারে অবস্থিত মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম. এ. মান্নানের ছোট ছেলে মাহিরের চতুর্থ জন্মবার্ষিকী এবং তাঁর দাদা, বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক অনুরাগী মরহুম আইয়ূব আলীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা (ব্লাড সুগার), রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ওজন পরিমাপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে এসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. এম. এ. মান্নান। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ ও স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজক ডা. এম. এ. মান্নান বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। সন্তানের জন্মবার্ষিকীকে মানুষের সেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা এবং মরহুম দাদার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলে মাহির, বড় ছেলে মুকতাদির এবং ভাতিজি মাছুমার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পাশাপাশি মরহুম দাদা আইয়ূব আলী, নানা আজমত আলী, চাচা কাইয়ূম এবং প্রয়াত দাদি ও নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র নাগরপুর বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করা।

মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

আসাদুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে সাফল্য ধরে রেখে আবারও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এবার কলেজটি থেকে মোট ১৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পাসের হার ৬২ শতাংশ। বস্তুনিষ্ঠ ও গুণগত শিক্ষার ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষায় উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে অবস্থান তৈরি করে আসছে। শুধু উপজেলা পর্যায়ই নয়, ইতিপূর্বে ২০০৯, ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যেও প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব দেখিয়েছিল কলেজটি। তারই সুসংহত ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও উপজেলার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলো সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।
প্রতিষ্ঠানের এই চমকপ্রদ সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- “আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আল্লাহর অশেষ রহমতে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফলের জন্য আমি সমগ্র এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজনদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

মোঃ জুয়েল মিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

 

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনালে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় জোরপূর্বক দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঃ কাদের ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ রাজা মিয়া (৫৬)।

​বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অনুমোদিত মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর থেকে তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন ককটেল, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তা দখলের চেষ্টা চালায়।

​অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় আঃ কাদের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনাল এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। একই সময়ে ২ নম্বর অভিযুক্ত সুমন ধারালো চাপাতি দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ভাঙচুর ও তছনছ করেন। হামলাকারীরা সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কার্যালয়টি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে কেউ প্রবেশ করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।

​এ ঘটনায় নিজের ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদেরের মতামত চাওয়া হলে তিনি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।

​মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।