বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

জামাত–চরমোনাইকে নিয়ে দুটি কথা

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, সন্দীপ (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
জামাত–চরমোনাইকে নিয়ে দুটি কথা

বেশ কয়েকদিন যাবত একটি বিষয় বারবার চোখের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে। জামায়াত–চরমোনাইকে নিয়ে নানান ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা সামনে আসছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, এসব বিষয়ে কোনো কথা বলব না। কারণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো অতটা পছন্দ করি না। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করল কলম হাতে নিতে। তাই শুরুতেই বলে রাখি আমার কথাগুলো স্বতন্ত্রভাবে নেবেন। বাস্তব বিষয় তুলে ধরতে গেলে কারো পক্ষে এবং কারো বিপক্ষে যেতে পারে। সেজন্য অনুরোধ থাকবে, পুরো লেখা পড়ে মন্তব্য করবেন। আংশিক পড়ে গালমন্দ করবেন না।

জামায়াত–চরমোনাইয়ের বিষয়টি একটু শুরু থেকেই আলোচনা করি। ২৪ জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানের একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা এক হবে। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে চরমোনাইয়ের পীর, সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই), দিনরাত মেহনত করে যান। এক পর্যায়ে তিনি কওমি ঘরানার প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একত্র করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের আরেকটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল জামায়াতকেও একত্র করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকেই কওমি অঙ্গনে আলেম–ওলামাদের মাঝে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু তিনি এসবের দিকে কর্ণপাত না করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে জনমানুষের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে ৮ দলের ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে। তখন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে এক ধরনের নতুন আনন্দ ও উৎফুল্লতা কাজ করতে শুরু করে। সবাই এই আট দলের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এই ৮ দল। সবাই উৎফুল্ল হলেও, আমাদের কওমি অঙ্গনের বড়দের একটি বড় অংশ এই সমঝোতার ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা করেন। কারণ, জামায়াত প্রশ্নে তাঁরা আপোষহীন ছিলেন। এদিকে যখন সব ইসলামিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় এবং জামায়াতকেও কাছে টেনে নেয়, তখন বামপন্থীদের মধ্যে নানান ধরনের উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। তারা মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে নানান ধরনের অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করে।

কখনো বলা হয় “চরমোনাই জামায়াতের কাছে ২০০ আসন চেয়েছে”, আবার কখনো বলা হয় “৮ দল ভেঙে গেছে।” এভাবে দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ার নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। আধুনিক যুগে সাধারণ মানুষ মিডিয়ার ওপর ভিত্তি করেই অনেক কিছু বিশ্বাস করে। ফলে যখন মিডিয়া থেকে অপপ্রচার শুরু হয়, তখন মানুষ ভাবতে শুরু করে, আসলে চরমোনাই খারাপ। অথচ বাস্তবে এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলাপচারিতাই হয়নি।

সবার মতো আমিও অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম যে,বাংলাদেশের পার্লামেন্ট একদিন টুপিওয়ালাদের পার্লামেন্টে পরিণত হবে। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন শুনি, চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের সঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির সাহেবের সাক্ষাতের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ছিল; কিন্তু তাঁর অসুস্থতার কারণে সেই সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে আরও নানান আলোচনা–সমালোচনা হতে থাকে।

পরবর্তীতে জানা যায়, জামায়াত কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করেছে। অথচ এই ঐক্যের একটি স্লোগান ছিল এটি কোনো জোট নয়, বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা। অর্থাৎ যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সবার সম্মতিক্রমে নিতে হবে। আরেকটি স্লোগান ছিল আসন বণ্টন হবে যেখানে যার সমর্থন ভালো, সেখানেই তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে শোনা যায়, এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে নাকি জামায়াত ৩০টি আসন কনফার্ম করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মূল নীতির এখানেই লঙ্ঘন ঘটে।

দ্বিতীয় যে স্লোগান ছিল, যেখানে যার লোকবল ভালো সেখানে তাকেই দেয়া হবে, সেটাও তারা মানেনি। এ ধরনের ঘটনার পর ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা জানতে পারি, এত কিছুর পরও চরমোনাইয়ের পীর সাহেব আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসেননি।

এনসিপিকে জোটবদ্ধ করার ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথমদিকে অসন্তুষ্ট থাকলেও পরে মনে হয়েছিল ২৪-এর শক্তিগুলো একসাথে হলে বাংলাদেশ নতুন করে সাজবে। এই আশায় নিয়মিত আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়াও করতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সব কিছুর ফয়সালা করেন আল্লাহ তাআলাই। তিনি যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।

যখন শুনলাম চরমোনাই ঐক্যের টেবিল থেকে সরে এসেছে, তখন খুব খারাপ লেগেছিল। মাদরাসায় থাকার কারণে পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। নানান জনের নানান সমালোচনার কথা শুনছিলাম। শুধু এটুকুই বলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিতাম—আল্লাহ তাআলা যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।

পরবর্তীতে সময়ের পালা বদলায়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। এদিকে মাদরাসার পরীক্ষাও শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে নেট জগতের অবস্থা দেখে আর নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি। অনেক ভাই চরমোনাইয়ের পীর সাহেবকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করছে, আবার চরমোনাইয়ের কিছু ভাই শফিক সাহেবকে নিয়েও কটু কথা বলছে। আমিরে মজলিস জামায়াতের সাথে আছেন, তাই মজলিসের অনেক ভাইও চরমোনাইকে বিভিন্ন ভাষায় কটাক্ষ করছেন।

কিন্তু এখানে একটা কথা মনে রাখি, ঐক্যটা এমন একটা পর্যায়ে ভেঙ্গে গেছে,যে সময় নতুন করে আর কোন ঐক্য করা সম্ভব না। স্বাভাবিকভাবে আমি মজলিস জামাতের সাথে থাকাটাই শ্রেয় ছিল। তাই তিনি সেখানে থেকে গিয়েছেন। এখন এর জন্য অন্যকে গালমন্দ করতে হবে, এটা বোধগম্য না। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো,আমার কওমি অঙ্গনের কিছু ভাইও নানান ধরনের বাজে ভাষায় চরমোনাইকে গালমন্দ করছে। যখন জামায়াতকে জোটে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন তাদের অনেক আপত্তি ছিল। আর এখন নানান জটিলতার কারণে জোট থেকে বের হওয়ায় আবার তাদেরকেই সমালোচনার পাত্র বানানো হচ্ছে।

এখানে আমার কওমি ভাইদের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই,চরমোনাই কারা? তারা কি আমাদের ভাই নয়? তারা কি কওমি অঙ্গনের সন্তান নয়? যদি উত্তর হয়; হ্যাঁ, অবশ্যই তারা কওমি অঙ্গনের সন্তান–তাহলে প্রশ্ন আসে, কেন তাদেরকে ফাসেক–ফুজ্জার, মুনাফিক, এমনকি মুরতাদ পর্যন্ত বলা হচ্ছে?

এই দীর্ঘ আলোচনা করার মূল কারণই হলো ‘মুরতাদ’ শব্দটির ব্যবহার। পরিচিত মানুষদের মুখে এই শব্দ শুনে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি। আপনি কোন যুক্তিতে আপনার নিজের ভাইয়ের ব্যাপারে এমন শব্দ ব্যবহার করছেন?
এর মানে এই নয় যে আমি জামায়াতকে খারাপ বলছি। তাদের সঙ্গে যে মতানৈক্য হয়েছে, তা তারা নিজেরাই স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু অনেকেই শুধু ‘আসন’ বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন। হুজুগে মাতাল হলে দেশ চলবে না। ২০২৬ সালেও যদি আমরা হুজুগে মাতাল হয়ে থাকি, তবে এই দেশের ভবিষ্যৎ সত্যিই অন্ধকার।

আমাদের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের গুণ খুব প্রবল। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে কোনো বিষয়কে ন্যায়সংগতভাবে বিচার করার মানসিকতা আমাদের মধ্যে খুব কম। যাই হোক, আমি বেশি বিশ্লেষণে যেতে চাই না। কারণ বেশি বিশ্লেষণ করলে আমাকেও কোনো এক পক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
সব দিক বিবেচনা করেই কথাগুলো বলেছি। এক কথায় বলতে চাই; মার্কা যার যেটাই হোক, যে সমাজের কল্যাণে কাজ করবে, ইসলামের কল্যাণে কাজ করবে, মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে, অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে এবং প্রকৃত শিক্ষিত, দীক্ষিত, ইসলামের গুণে গুণান্বিত মানুষ হবে,তাকে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থান থেকে সমর্থন জানাবেন।

পরিশেষে আমার প্রত্যেক ভাইয়ের কাছে একটি আবেদন; আমরা কওমি অঙ্গনের সন্তান, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের আদর্শ গালি দেওয়ার আদর্শ নয়। আমাদের আদর্শ হলো মদিনাওয়ালার আদর্শ। যাকে মানুষ গালি দিত, তিনি হাসি দিয়ে তার জবাব দিতেন। অতএব, প্রচলিত রাজনীতির মোহে পড়ে আমরা আমাদের মুরুব্বিদের কোনোভাবেই কটাক্ষ করব না,ইনশাআল্লাহ।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।