বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

মহাখালীতে রাজউকের নকশা তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবন: জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে

সোহরাব হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
মহাখালীতে রাজউকের নকশা তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবন: জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে

ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকার ৫/সি নম্বর রোডের বাসিন্দারা এখন এক মূর্তমান আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। অত্র রোডের জ-১৫২ নম্বর হোল্ডিংয়ে রাজউকের কোনো তোয়াক্কা না করেই গড়ে তোলা হচ্ছে একটি বহুতল ভবন। অভিযোগ উঠেছে, ভবনের মালিক লতিফ হোসেন প্রভাব খাটিয়ে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে পার্শ্ববর্তী ভবন ও পথচারীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা শহরের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা না ছেড়েই ভবনের দেয়াল তোলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে চারদিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ছাড়ার (Setback) বিধান থাকলেও, এই ভবনের ক্ষেত্রে এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়া হয়নি। ফলে সরু হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা।

নির্মাণাধীন ভবনেই ভাড়াটে ও বাণিজ্যিক ব্যবহার
ভবনটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু তার মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে ভাড়াটে তোলা হয়েছে। আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও অধিক মুনাফার আশায় নিচতলা ও অন্যান্য তলায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অর্ধনির্মিত ভবনে এভাবে মানুষ বসবাস ও ব্যবসা করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই বিল্ডিংয়ের কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। ওপর থেকে প্রায়ই নির্মাণ সামগ্রী নিচে পড়ে। যেকোনো সময় কারো মাথায় পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃষ্টি হলে বা ছাদের পানির ট্যাংক উপচে পড়লে সেই পানি সরাসরি রাস্তা এবং আমাদের বাড়িতে এসে পড়ে।”

আরেক বাসিন্দা জানান, ভবন থেকে জানালা দিয়ে নিচে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পাশের গলিগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এবং মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবনের মালিক লতিফ হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। তবে রাজউকের অনুমোদিত নকশা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনের অথোরাইজড অফিসার বলেন, “মহাখালীর ৫/সি রোডের এই ভবনটি নিয়ে আমরা বেশ কিছু মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। নকশা বহির্ভূত বা রাস্তার জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। আমরা দ্রুতই একজন পরিদর্শক পাঠিয়ে তদন্ত করব এবং সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ ও নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ড. এম. আমানুল্লাহ এই প্রসঙ্গে বলেন, “নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া নির্মাণ কাজ চালানো ফৌজদারি অপরাধ। আবাসিক ভবনে অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়াই রাস্তা নোংরা করা নগরীর বসবাসের যোগ্যতা কমিয়ে দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে দেওয়া।”

ওই এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ এখন সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা চান দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদ এবং নির্মাণ কাজ চলাকালীন এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। জনস্বাস্থ্যের হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই এখন একমাত্র সমাধান।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।