বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

পদ্মার ঢেউয়ে লেখা জীবনলিপি: চরাঞ্চলের মানুষের অন্তহীন জীবন সংগ্রাম

নাজমুল হাসান,মাদারীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
পদ্মার ঢেউয়ে লেখা জীবনলিপি: চরাঞ্চলের মানুষের অন্তহীন জীবন সংগ্রাম

ছবি- সকালের বার্তা

পদ্মার বুকে জেগে ওঠা মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল যেন এক ভিন্ন জগৎ। এখানে মানুষের প্রতিটি সকাল শুরু হয় অনিশ্চয়তা আর নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে। নদী জমি কেড়ে নেয়, আবার নতুন চর জেগে ওঠে—এই নিষ্ঠুর চক্রের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ও মাদবরের চরের কয়েক হাজার মানুষের জীবন। দারিদ্র্য, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এসব মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা পাওয়া এখনো এক অপূর্ণ স্বপ্ন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত এসব মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ও মাছ ধরা। কিন্তু প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল এই জীবিকা মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড করে দেয় আকস্মিক ভাঙন কিংবা খরা। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চল জুড়ে নামে আতঙ্কের ছায়া। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেলে তারা যাযাবরের মতো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়ান।

​যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রধান সংকট। পাকা রাস্তার অভাবে নৌকা ছাড়া চলাচলের বিকল্প নেই। বর্ষায় উত্তাল নদী পাড়ি দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি জরুরি চিকিৎসায় কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে ছোটখাটো রোগও এখানে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

​চরজানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা আউয়াল মিয়া বলেন, “নৌকা ছাড়া আমাদের চরের মানুষের আর কোনো গতির নাই। সময়মতো হাসপাতালে যাইতে পারি না বইলা আমাদের অনেক কষ্ট সইতে হয়।”

​একই চিত্র শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের বিশাল জনপদ। যাতায়াত সমস্যার কারণে শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার পর আর এগোতে পারে না। কলেজছাত্রী রাবেয়া আক্তারের মতে, উপজেলা সদরে গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক দুঃসাধ্য লড়াই।

​কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের আবুল চৌকিদার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “প্রতি বছর নদী আমাগো ঘরবাড়ি খায়, আমরা আবার নতুন কইরা বাঁধি। আমাগো এই কষ্টের কথা কেউ দেখে না। উন্নয়নের ছোঁয়া এইখানে কবে আসবে জানি না।”

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিচ্ছিন্ন এই জনপদকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। টেকসই বাঁধ নির্মাণ, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সেই সঙ্গে চরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

​জনপ্রতিনিধিরা জানান, চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে, তবে ভৌগোলিক কারণে সেবা পৌঁছে দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরাঞ্চলের এই সংগ্রামী মানুষের ভাগ্যবদল করতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসাই এখন বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
​পদ্মার এই চরাঞ্চল যেন বাংলাদেশের এক সংগ্রামী বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে টিকে থাকা মানেই প্রতিদিন একটি নতুন যুদ্ধে জয়লাভ করা।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।