ধান ক্ষেতে পোকা দমনে কৃষকদের একমাত্র ভরসা ফেরোমন ট্র্যাপ
ছবি- সকালের বার্তা
পরশুরামে বোরো ধানের মাজরা পোকা দমনে পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদ পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১১৭ বিঘা জমিতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিকর পোকা দমন ও ফসল রক্ষায় ফেরোমন ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, পোকা ও কীট দমনে অন্য কীটনাশক কিংবা ওষুধের তুলনায় খরচ অনেক কম হওয়ায় এর ব্যবহারেও আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।
পরশুরাম পৌরসভার উপসহারী কৃষি কর্মকর্তা দেবানঞ্জন বণিক বলেন, পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের দুবলাচাঁদ গ্রামের ৭৮ জন চাষি প্রায় ১১৭ বিঘা জমিতে ফোরোমন ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। জমিগুলোর ফলানো ভালো হয়েছে। চাষিরা জানান, আগে ফসলের খেতে পোকা দমনে বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কীটনাশক এনে ব্যবহার করতেন তাঁরা। এতে প্রতি বিঘায় প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হতো। কিন্তু পুরোপুরি পোকা দমন হতো না।
ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে এবার মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা হয়েছে।
দুবলাচাঁদ গ্রামের কৃষক মরণ কান্তি মজুমদার জানান, ৪০ শতক জমিতে এবার বোরো ধান চাষ করেছি।গত বছর মাজরা পোকার আক্রমণে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় এবার ফসল ভালো হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়,চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩২৫০ হেক্টর।লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৩২৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। গতবছর ফসল ঘরে তোলার আগে মাজরা পোকার আক্রমণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো পরশুরাম উপজেলায় এবার ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ফাঁদ তৈরি করতে একটি পাত্র ও গন্ধ সৃষ্টিকারী উপাদান লিউেরর প্রয়োজন হয়। প্লাস্টিকের একটি বোতলে লিউর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এর নিচের পাত্রে দেওয়া হয় সাবান পানি। লিউর থেকে পুরুষ পোকার গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্ত্রী পোকা ছুটে আসে ও পানিতে আটকা পড়ে মারা যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর বলেন, কীটনাশক ব্যবহার না করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। এটি ব্যবহার করায় মাজরা বা ফলি পোকার উৎপাত বন্ধ হয়েছে।
















