বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): নির্বাচনের ইতিহাস ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্লেষণ

সবুজ আহমেদ, দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): নির্বাচনের ইতিহাস ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্লেষণ

টাঙ্গাইল-৬ সংসদীয় আসন নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ১৩৫ নম্বর আসন। নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকা, যেখানে বিভিন্ন সময়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জয়লাভ করেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক ধারা
১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের জন্য এই আসনটি তৈরি করা হয়েছিল পরবর্তীতে এটি পূনবিন্যস্ত করা হয়। শুরু থেকেই এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষত, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাত্র একবার জয়ী হয়েছিল (১৯৭৩ সালে)। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই আসনে পাঁচবার জয়লাভ করে, যা এই অঞ্চলে তাদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

বিএনপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে এর পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে।এরপরের বেশ কয়েক নির্বাচনে আওয়ামীলীগ আসনটি পেয়েছে৷

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬), এই আসনের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): রবিউল আওয়াল লাভলু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই দলটি আসনটি ফিরে পেতে চায় এবং ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ করছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: মোঃ আখিনুর মিয়া হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ): মোহাম্মদ মামুনুর রহিম লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন।

জাতীয় পার্টি – জেপি (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু): তারেক শামস খান বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এ.কে.এম আব্দুল হামিদ (ডাঃ) দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী: মোঃ জুয়েল সরকার হরিণ প্রতীক এবং মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (ব্যারিস্টার) মোরগ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

অতীতে এই আসনটি বিএনপির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ের জন্য জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে, নির্বাচনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মন-মানসিকতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করবে।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।