ভাতা আত্মসাৎ প্রমাণিত, দৌলতপুরের নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত
ছবি- সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাসকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কল্লোল বিশ্বাস (পরিচিতি নম্বর-১০৯১৩০৩৮) যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের যাতায়াত ভাতা থেকে কর্তন করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৩ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে মোট ৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন—এ অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং-১৮/২০২৫) দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব খোরশেদ আলম তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ভাউচারে ভ্যাট ও আয়কর অংশে ‘পেন থ্রু’ করে অর্থ নিজের কাছে রেখে দেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তা চূড়ান্ত করা হয়। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়েছে।
একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৪০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কল্লোল বিশ্বাস অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।



















