গুরুদাসপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। এছাড়া ধামরাই পৌর বিএনপি ও ধামরাই থানা বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তাসহ দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো এবং পূজার দিনগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে ধামরাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। একই সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে সরকারি নির্দেশনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় দুর্গাপূজার সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট লালন শাহ মাজার এলাকা পরিদর্শনের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় তার ওপর হামলা এবং গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাজার থেকে বের হওয়ার সময় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় মাজার জিয়ারত শেষে বের হয়ে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি ডিম ছুড়ে মারেন। এর পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাদের কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এছাড়া এর আগেই তার গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গীদের ধাওয়া করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা কুমারখালী থানায় অবস্থান নেন এবং এ বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নেন।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারও হামলা চালানো হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এটি তার ওপর পঞ্চম হামলা বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এই ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, “এই হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমরা ‘মব-কালচারের রাজনীতিতে’ বিশ্বাস করি না।”
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন মাজারে এসেছিলেন। সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এনসিপি সূত্র জানায়, এর আগেও বিভিন্ন সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২২ মে ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এবং ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
কুষ্টিয়ার এই ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসন তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের লক্ষে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। থানা পুলিশের প্রায় ৮০ জন সদস্যের একটি বিশেষ দল গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এই অভিযান চালায়। এতে রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে আলোচিত দুই ব্যক্তি হলেন মরিচা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনি ফরাজী এবং স্থানীয় অপরাধ চক্র ‘কাঁকন বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি টুয়েল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান ঝালু ফরাজীর ভাই ও ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মনি ফরাজীকে জুয়া খেলার আসর থেকে আরও ছয়জনসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। অন্যদিকে, আলাই ফরাজীর ছেলে টুয়েলকে জোড়া হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রাতের এই ঝটিকা অভিযানে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন, ২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন এবং ৬ বোতল স্কাব কফ সিরাপসহ আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। জুয়া খেলার অভিযোগে ৭ জন, মাদক সেবনের অপরাধে ২ জন এবং বিভিন্ন মামলায় আগে থেকেই পরোয়ানাভুক্ত ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যেসব এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়:
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, উপজেলার আদাবাড়িয়া, প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর, মথুরাপুর, ফিলিপনগর, মরিচা ও পিয়ারপুর ইউনিয়নজুড়ে এই অভিযান একযোগে পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, রাতের পুলিশি অভিযানে ওয়ার্ড সভাপতি মনি ফরাজী ও টুয়েল আটক হয়েছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দৌলতপুরে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।