বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লার লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মোঃ জামির হোসেন সরকার, কুমিল্লা: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১১ পিএম
কুমিল্লার লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার লাকসামে সিনথিয়া উদ্দিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে পৌরভবনের সামনের একটি ভবন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সিনথিয়া উদ্দিন লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে লালমাই উপজেলার সিংহরিয়া গ্রামের প্রবাসী সাহাব উদ্দিন ও কোমারডোগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খালেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সিনথিয়ার মা লাকসাম পৌরভবনের সামনে চাচা-ভাতিজা ভবনের চারতলায় ভাড়া থাকতো। সোমবার সন্ধ্যায় বান্ধবীদের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট না করার জন্য তার মা বকাঝকা করে। এ সময় অভিমান করে সে তার শয়ন কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ শয়ন কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার হাতে ব্লেড দিয়ে কাটার ৮/১০টি চিহ্ন রয়েছে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদ আহম্মেদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

আবাসিক ও ঘনবসতিতে কাঠখড়ির ইটভাটা গুরুদাসপুরে যত্রতত্র ইটভাটার দৌরাত্মে কৃষিজমি ও জনজীবনে মারাত্মক হুমক

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আবাসিক ও ঘনবসতিতে কাঠখড়ির ইটভাটা গুরুদাসপুরে যত্রতত্র ইটভাটার দৌরাত্মে কৃষিজমি ও জনজীবনে মারাত্মক হুমক

সজিবুর রহমান  নাটোর প্রতিনিধি:

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাটোরের গুরুদাসপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার দৌরাত্ম থামছেই না। আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায় যত্রতত্রভাবে এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে স্থানীয় জনজীবন, কৃষিজমি, পরিবেশ, পাকাসড়কের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা কারা সত্ত্বেও অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর চিমনির উচ্চতা কম হওয়ায় নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে শ্বাষকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। আশপাশের জমিগুলোতে মারাত্মক ফসলহানি ঘটছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘনবসতির মানুষেরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। ইট ও মাটি বহনকারী ট্রাক্টর-ট্রলির দাপটে নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক। তিন ফসলি জমি কেটে ইট তৈরির মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠখড়ি। এসব ইটভাটা অনুমোদেনের কোন কাগজ দেখাতে পারেননি স্বত্বাধিকারীরা।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩/২০১৯ সংশোধন অনুযায়ী- কৃষি জমি, বনভূমি ও আবাসিক এলাকার কাছে ভাটা স্থাপন ও জ্বালানী হিসেবে কাঠ বা কয়লা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কৃষিজমি, পুকুর বা নদী, খাল ও জলাভূমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর পুকুর খননের কারণে ১২০ হেক্টর তিন ফসলি জমিতে কমে গেছে। এসব জমিতে ধান, পাট, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হতো। ফলে ধানের আবাদ কমেছে প্রায় ১০০ টন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের শেষের দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এক অভিযানে উপজেলার ৯টি অবৈধ ইটভাটাকে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর সদর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মোট ১১টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র দুইটি ভাটার লাইসেন্স আছে। আবাসিক এলাকার ৫টি ইটভাটার মধ্যে চাঁচকৈড়ের মোশাররফ হোসেনের মেসার্স এমবিপি ব্রিক্স, আব্দুস সালাম সবুজের মেসার্স একেবি ব্রিক্স, জহুরুল সোনারের মেসার্স এমডিআর ব্রিক্স, জাহাঙ্গীর সোনারের মেসার্স এমডিএস ব্রিক্স, আমজাদ-মফিজের মেসার্স এএমবি ব্রিক্স তাদের ইটভাটা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
আবার উপজেলার সাহাপুরে রয়েছে আজাহার প্রামাণিকের মেসার্স এইচবিবি ব্রিক্স, আজাহার বালুর মেসার্স এইচআরবি ব্রিকস, কাদের হাজীর মেসার্স এইচকেবি ব্রিকস, মজনু সরদারের মেসার্স এমএসবি ব্রিক্স, হাজীর হাটে জাহিদুল ইসলামের মেসার্স এমডিপি ব্রিক্স, চন্দ্রপুরের রেজাউল হাসান রানার মেসার্স আরআরবি ব্রিকস। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিন ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মাসুদ রানা, জবতুল্লাহ মন্ডল, জাহের প্রামাণিক, সুজাউদ্দৌলা সুজন, কৃষক রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরই ইটভাটায় জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের “দায়সারা” অভিযানের পর ভাটাগুলো আবার চালু হয়ে যায়। স্থায়ীভাবে এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে ভাটাগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পড়েছে।’
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন- ‘ইটভাটার ভ্যাট, আয়কর, ট্রেডলাইসেন্স, কলকারখানাসহ বিএসটিআই ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স আছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কারোরই নেই। তবে দুটি ভাটার লাইসেন্স আছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হলে ইটভাটা মালিকদের জানাতে হবে।’
মেসার্স আরআরবি ব্রিকসের রেজাউল হাসান রানা ও মেসার্স এমডিপি ব্রিক্সের জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিময় মেনে ইটভাটা পরিচালনা করছি, ছাড়পত্রও আছে। কোনো সমস্যা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘ইটভাটার জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা লাইসেন্স বিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বকশিগঞ্জে কভারভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ১

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
বকশিগঞ্জে কভারভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ১

মোহাম্মদ আরমান, স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের বকশীগঞ্জে মোটরসাইকেল ও কভারভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আপন (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শাকিব মিয়া (১৮) নামে আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার দত্তেরচর এলাকায় জামালপুর-রাজিবপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আপন উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর গ্রামের ইয়াহিয়ার ছেলে। আহত শাকিব মিয়া একই গ্রামের মিনারুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় একটি পালসার মোটরসাইকেলে আপন ও শাকিব যাচ্ছিলেন। পথে দত্তেরচর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কভারভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আপনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শাকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও কভারভ্যান হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে কভারভ্যানের চালক পালিয়ে গেছেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ঘটনাটি হাইওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তারাই দেখবে।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।