শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

জামায়াতের শক্ত ঘাঁটিতে চ্যালেঞ্জ বিএনপি

কৌশিক চৌধুরী, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১১ পিএম
জামায়াতের শক্ত ঘাঁটিতে চ্যালেঞ্জ বিএনপি

ছবি- ফাইল

হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর এই চার উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-৬ আসন গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্য পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৬ জন। এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ১৩ জন। ৬৮৪ বর্গ কিলোমিটার এই সংসদীয় আসনে রয়েছে ৩ টি পৌরসভা ও ২৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ। জেলার সর্বদক্ষিণে ও ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ৭ জন এমপি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তাদের মধ্য বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ, জামায়েত মনোনীত দাঁড়িপল্লা প্রতীক নিয়ে কেন্দ্রী সূরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীতে লাঙ্গল প্রতীকে রেজাউল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত নূর আলম সিদ্দিক হাতপাখা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মনোনীত মই প্রতিকে আব্দুল হাকিম, স্বতন্ত্র থেকে ফুটবল প্রতিক নিয়ে আব্দুল্লাহ ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে শাহনেওয়াজ শুভ প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তবে এরই মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী শাহনেওয়াজ শুভ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

হাফডজন প্রর্থী থাকলেও প্রচার প্রচারণায় বিএনপি, জামায়েত প্রার্থী ও নেতকর্মী ছাড়া অন্যদলের কাউকে প্রচার প্রচারণায় দেখা যায় নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতিকের মাইকে প্রচাল লক্ষ করা গেছে। তবে কোন নেতাকর্মী বা প্রার্থীকে ভোটের মাঠে লক্ষ্য করা যায়নি।

স্বাধীনতা পরবর্তী এই আসনে আওমীলীগ ও জামায়েত রাজত্ব করেছে। এই আসন থেকে আওয়ামীলীগ ৬ বার ও জামায়েত ২ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। সেই হিসেবে আ.লীগ না থাকায় জামায়েত রাজত্ব করার কথা। কিন্তু এবার বিএনপির হ্যাবিওয়েট নেতা ডা. জাহিদ এই আসনে বিএনপির শক্ত হাল ধরে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালচ্ছেন। এবারে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। জনসংযোগ প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই সাথে দম ফেলার সময় নেই, নেতাকর্মীর। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

শতভাগ বিজয়ের আশা তাদের। কর্মীরা বলছেন তিনি নির্বাচিত হলে এই আসন থেকে মন্ত্রী হবে। যেটি হবে এই আসনের প্রথম মন্ত্রী। মন্ত্রী হলে রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঙ্খিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে। গড়ে উঠবে কলকারখান, কর্মসংস্থান ব্যাবস্থা হবে হাজারো বেকারের।

এদিকে আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়েত। জয়ের আশা শতভাগ, কারণ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে একা হাজারেরও কম ভোটে পরাজীত হয় বর্তমান জামায়াতের প্রার্থী। তারা বলছেন এই এলাকার মানুষ ন্যায়ের পক্ষে। জামায়াত দল সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে থাকে। তাই ভোটাররা এ বার ভুল করবেনা। বিপুল ভোটে জয়লাভের আশা।

উভয় প্রার্থীর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ির মধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর হিলি স্থলবন্দরের রাস্তাঘাট ও বন্দরের ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসারে বেশ সজাগ।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বিএনপি-জামায়াতের ঐক্য জোটের পক্ষে জামায়াতের এমপি প্রার্থী ছিলেন। সে সময়গুলিতে বিএনপি নেতা কর্মীরা জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছেন। এই আসনে বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে উপল্লেক করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করছেন। জনগন শতঃস্ফর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে বিএনপিকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। এবং এই আসনের প্রার্থী ডা. জাহিদ জিয়া পরিবারের ঘনিষ্টজন, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রি হবেন। এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

এদিকে হাকিমপুর উপজেলা জামায়াতে আমীর আমিনুল ইসলাম বিএনপি প্রার্থী ডা. জাহিদকে ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি নির্বাচন উপলক্ষে এই আসনে ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের অঙ্গিকার করছেন। এর আগে সুখে-দুঃখে এলাকার জনগণ তাঁকে পাশে পাননি। জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বিগত ১৭ বছর যাবৎ এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। প্রত্যোক পাড়া মহল্লার শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে তাঁকে ভলো মানুষ হিসেবে জানেন। এবারে ইনশাআল্লাহ দাঁড়ি পল্লা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। শুধু এই আসনে নয় সারা দেশে দাঁড়ি পল্লার জোয়ার বইছে।
উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর মহল্লার এক ভোটার জানান, এই আসন থেকে জামায়েত ও আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এলাকার রাস্তুঘাট , অবকাঠামোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ডা. জাহিদ এই আসন থেকে নির্বাচিত হলে তিনি মন্ত্রী হতে পারেন। তাই এবার আর ভুল করবেননা, তিনি ধানের শীষে ভোট দিবেন।

জামায়াতের প্রার্র্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রাচার প্রচারণায় জনগনের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি মাত্র ৮৫৮ ভোটে পরাজীত হয়েছি। এই সামান্য ভোটের ব্যাবধানকে পরাজয় বলেনা। প্রতিকী অর্থে তিনি বলেন, এবার এতো পরিমাণ দাঁড়ি পল্লায় ভোট পড়বে যে দাঁড়ি পল্লায় ওজন করে শেষ করা যাবেন।

এদিকে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল বিএনপি আমাকে এই আসনে মনোনীত করেছেন। তারেক রহমানের নের্তৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি জনগণ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা মধ্য দিয়ে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।