কসবায় ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের পরও বহাল তবিয়তে আওয়ামী লীগ কর্মী সেলিম: ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে দলীয় আড্ডা, নেপথ্যে কারা?
সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নে প্রকাশ্যে ও গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বায়েক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আন্তর্জাতিক ইউনিট (লেবানন শাখা)-এর প্রতিষ্ঠাতা সেলিম মিয়ার প্রকাশ্যে চলাফেরা এবং একটি সরকারি কার্যালয়কে রাজনৈতিক আড্ডাস্থলে পরিণত করার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও সেলিম মিয়া ডিজিটাল সেন্টারে নিজের পদের সুবিধা নিয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। দাপ্তরিক কাজের অজুহাত দেখিয়ে তিনি সেখানে প্রতিদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের জড়ো করেন এবং নিয়মিত গোপনে বৈঠক ও আড্ডা পরিচালনা করেন। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ওপর আগের মতোই ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে সেলিম মিয়া তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেন। সেই ক্ষমতার জোরে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—যেমন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে অরুচিকর ও ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে দিতেন। তার এই দাপটের কারণে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এতদিন ধরে কার্যত জিম্মি ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী জানান, গত জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সেলিম মিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। আন্দোলন দমন করতে তিনি ছাত্রলীগের একদল ক্যাডার নিয়ে কসবায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশ নেন এবং অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দেন। পাশাপাশি লেবানন শাখা ছাত্রলীগের বিতর্কিত সদস্যদের সাথেও তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বাঁচাতে সেলিম মিয়া কৌশল বদলেছেন বলে জানা গেছে। গ্রেফতার ও শাস্তি এড়াতে তিনি বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন স্বার্থান্বেষী বিএনপি নেতার সাথে আঁতাত করার চেষ্টা করছেন এবং গোপনে বিএনপির বিভিন্ন দলীয় প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
‘দৈনিক সকালের বার্তা’-র বিশেষ অনুসন্ধানে জানা যায়, সেলিম মিয়ার এই অপকর্ম ও ক্যাডার রাজনীতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনগণ। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এবং নামমাত্র ‘আপসে’র ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে সেই অভিযোগটি তুলে নিতে বাধ্য করা হয়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তুলছেন একাধিক প্রশ্ন: একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য, যিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় যুক্ত ছিলেন তিনি কীভাবে এখনো বহাল তবিয়তে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন? কার আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে সেলিম এখনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে আড্ডা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন? এর পেছনে কি প্রশাসনের কোনো অসাধু মহলের সায় রয়েছে, নাকি অন্য কোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়া? ইউএনও কার্যালয়ে অভিযোগ জমা হওয়ার পরও কেন তা তদন্ত না করে তুলে নেওয়া হলো এবং কেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
বায়েক ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত উদ্যোক্তা সেলিম মিয়াকে পদচ্যুত করা এবং তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
















