বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

লালন স্মরণোৎসব ঘিরে ছেঁউড়িয়ায় উৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা

তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
লালন স্মরণোৎসব ঘিরে ছেঁউড়িয়ায় উৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লালন স্মরণোৎসব ও গ্রামীণ মেলা। উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল, ফকির, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি। বিপুল জনসমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে উৎসবস্থল ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লালন একাডেমি আয়োজিত এ স্মরণোৎসব আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ইতিমধ্যে আখড়াবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বসেছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লালন মেলা।

সাধু-ভক্তদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, উৎসবের প্রথম দিন সন্ধ্যায় বাল্যসেবা, দ্বিতীয় দিন সকালে রাখালসেবা এবং তৃতীয় দিন দুপুরে পুণ্যসেবা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধু-ভক্তদের বিশ্বাস, এই তিথিতেই ফকির লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। দিনটি তাঁদের কাছে শোকের হলেও সাধুসঙ্গ, ভাববিনিময়, তত্ত্বালোচনা ও মরমি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাঁরা মানবতাবাদী এই সাধককে স্মরণ করেন।

স্মরণোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে প্রতিদিন সন্ধ্যায় লালন মুক্তমঞ্চে লালনের জীবন, দর্শন, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা শেষে দেশবরেণ্য ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লালনসংগীত পরিবেশিত হবে।

এদিকে উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তাপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার মোহিনী মোহন আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রিফিং প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও বিনয়ী আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ছেঁউড়িয়া ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন, চেকপোস্ট স্থাপন, পিকেট ডিউটি, মোবাইল টহল ও পদচারণা টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি, সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম, নদীপথে নিরাপত্তায় স্পিডবোট এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রবেশপথে আর্চওয়ে গেট, যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি এবং দর্শনার্থীদের সহায়তায় ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিং প্যারেডে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিকদার মো. হাসান ইমাম, ফয়সাল মাহমুদ, প্রণব কুমার সরকারসহ জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তোহিদ বিন-হাসান জানান, স্মরণোৎসব ও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকেরা আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের লালন স্মরণোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।