বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ: ভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে বাতকুচি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোঃ শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ: ভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে বাতকুচি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় বাতকুচি গ্রামে চেল্লাখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দীর্ঘদিনের ভাঙন আতঙ্কে থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে এ উদ্যোগে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাতকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চেল্লাখালী নদীর তীর ভাঙন গত কয়েক বছর ধরেই ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর নদীর তীর আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বিদ্যালয় ভবনটি সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

এমন বাস্তবতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে জিওটেক্স বস্তা, কাঠ, খুঁটি এবং বালু ব্যবহার করে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই পদ্ধতি নদীর তীর সংরক্ষণে কার্যকর এবং টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত।

বাতকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভাঙনের আতঙ্কে ছিলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বাঁঁধ নির্মাণ উদ্যোগটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির খবর। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জিওটেক্স বস্তার মাধ্যমে বাঁধটি সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত জানান, “নদী ভাঙনের কারণে আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতাম। এখন জিওটেক্স বস্তায় বালু ভরে ভেকু মেশিন দিয়ে লেভেলিং করে যে কাজটি করা হচ্ছে, তা বেশ কার্যকর মনে হচ্ছে। এতে শুধু স্কুল নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিও রক্ষা পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পীরলেস ভেঞ্চার লিমিটেডের প্রতিনিধি মোতালেব বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রয়িং ও স্টিমেট অনুযায়ী কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, “প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি যাতে কাজের গুণগত মান বজায় থাকে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই সময়োপযোগী উদ্যোগ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করবে না, বরং পুরো এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নদী ভাঙনের কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, চেল্লাখালী নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সাময়িক প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই নদী শাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট থেকে পুরো অঞ্চলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।