ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত এস এস সি ও সমমান পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি
ছবি- সংগৃহীত
উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক, খামারি ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘন্টায় ঘন্টায় ৫-৬ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। শালদধর এলাকার পরীক্ষার্থী পারভীন আক্তার জানায়, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, গরমে ফ্যান না চলায় লেখাপড়ায় মনোযোগও থাকে না।
অভিভাবক তৌহিদুল ইসলাম অভি বলেন, সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কিনতে পারে না। গ্রামের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই নিম্নবিত্ত ফ্যামিলির থাকায় তাদের লেখাপড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমত সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, “সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না, আবার ডিজেলের সংকটে বিকল্প ব্যবস্থাও চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন। পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আবাসিক ভবনগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং রান্নাবান্নাতেও সমস্যা হচ্ছে, ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো অফিসে যেতে পারছেন না। মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন,পরীক্ষার আগে এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সংকট তাদের প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল অফিসার জানান, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা থাকবে এবং রাতের লোডশেডিং কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) এসএম শাফায়েত আখতার নূর বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখা হবে।চলতি বছরে পরশুরাম উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬টি কেন্দ্রে মোট প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
















