বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ: দীপেন দেওয়ান

জাহাঙ্গীর, রাংগামাটি জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ: দীপেন দেওয়ান

সব জাতিসত্তার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসবগুলো কেবল আনন্দ আয়োজনের মাধ্যম নয়, বরং এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আজ সোমবার দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের বাসভবনে আয়োজিত ‘বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু-চাংক্রান-চাংলান’ উৎসব ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায় অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসবগুলো পালন করছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিকড় ও সংস্কৃতি রক্ষায় এই ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান।

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবগুলো আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতীক। এই সংস্কৃতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সকল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও তাদের স্বকীয় সংস্কৃতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে পার্বত্য মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, গণতান্ত্রিক ভোটে বিজয়ী এই সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের এই সামাজিক উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্ব-স্ব নামে পালনের পূর্ণ অধিকার ও স্বীকৃতি পাবে। তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মাধ্যমে দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে মন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষকে বাংলা নববর্ষ ও বিজুর মৈত্রীয় শুভেচ্ছা জানান।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।