সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

কৃষি কার্ড, খাল খনন ও পদ্মা ব্যারেজ রাজশাহীর জনসভায় একগুচ্ছ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাকারিয়া আল ফয়সাল রাজশাহী ব্যুরো প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
কৃষি কার্ড, খাল খনন ও পদ্মা ব্যারেজ রাজশাহীর জনসভায় একগুচ্ছ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই বছর সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ভূমিহীন প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র ৪০ লক্ষ কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিব, ইনশাআল্লাহ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আঁখ চাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য মোট ১০টি বিশেষ সুবিধা রাখা হবে। এর মাধ্যমে ফসলের উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হবে, যার আওতায় কৃষকদের অন্তত ১টি ফসলের প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক সরকারের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়াও এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা ব্যাংক ঋণ, ফসলের বীমা, আবহাওয়া সংক্রান্ত আগাম তথ্য এবং বীজ বপন ও সার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

“নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লক্ষ কৃষকের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছি।

কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে আমরা ‘ফার্মারস কার্ড’ বা ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। ইনশাআল্লাহ এই বছরেই সমগ্র বাংলাদেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ৪০ লক্ষ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে এই কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে অন্তত একটি ফসলের প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে বা ভর্তুকিতে সরকারের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, ফসলের বীমা এবং মোবাইলে আগাম আবহাওয়া বার্তা পাওয়ার সুবিধা থাকবে। এই কৃষি কার্ডে মোট ১০টি বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বরেন্দ্র প্রকল্প ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। কৃষক ভাইদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ করতে আমরা পুনরায় খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন করব, যার মধ্যে গত আট মাসেই প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ করা হয়েছে।”

স্বাস্থ্যখাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জনগণের নির্বাচিত বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে—আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

কলকারখানা খোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “শ্রমিক ভাইদের বেকারত্ব দূর করতে ও কর্মসংস্থান ফেরাতে বন্ধ মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে এরই মধ্যে ৬টি বন্ধ কারখানা চালু করা হয়েছে এবং আগামী ১২ মাসে আরও শিল্প কারখানা চালুর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

তারেক রহমান বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। বর্তমান বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—মেয়েদের শিক্ষা অনার্স (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে এবং মেধাবী ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি পরিবারকে মায়ের নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের হাতে প্রতি মাসে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সন্তানদের পুষ্টি ও শিক্ষার চাহিদা মিটিয়ে ক্ষুদ্র পুঁজি গড়ে তুলতে পারেন।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে গতকাল ঢাকার ওসমানী উদ্যানে আমরা একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছি। আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের দায়িত্ব বিএনপি নিয়েছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, যারা মুখে ২৪-এর কথা বলে, তারা শহীদদের শ্রদ্ধার সেই অনুষ্ঠানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। বিএনপি ৭১ এবং ২৪-এর চেতনাকে সমানভাবে ধারণ করে।”

ষড়যন্ত প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন,
“দেশের অগ্রগতি ও শিল্পাঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টি করতে চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দাদের স্পষ্ট তথ্য আছে—পলায়নকৃত স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরের কিছু রাজনৈতিক চক্রের সাথে মিলে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করে স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা করছে। দেশবাসীকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।”

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের পানির সংকট ও পদ্মার পানি প্রবাহ সচল রাখতে আমরা দুইটি মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি রাজশাহীতে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ এবং উত্তরাঞ্চলে ‘তিস্তা ব্যারেজ’।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দুই ব্যারেজের কাজ শুরু ও সম্পন্ন করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৪টি জেলার পানির সমস্যা দূর করবে এবং ভারতের কাছ থেকে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করবে।”

বিএনপি মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শাহীন সৈকত, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাইদ চাঁদ।

আরও বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিপুণ রায় চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

রাজশাহী মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায়
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা, রেহান আসিফ আসাদ, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবিবা, ও সানজিদা তুলি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ড, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ), ওবায়দুর রহমান চন্দন।

আজ প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করবেন। রাজশাহী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন।

সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

সন্তানের জন্মদিনের আনন্দকে মানবসেবায় উৎসর্গ এবং প্রয়াত দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বাদ আসর থেকে বাদ এশা পর্যন্ত নাগরপুর বাজারে অবস্থিত মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম. এ. মান্নানের ছোট ছেলে মাহিরের চতুর্থ জন্মবার্ষিকী এবং তাঁর দাদা, বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক অনুরাগী মরহুম আইয়ূব আলীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা (ব্লাড সুগার), রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ওজন পরিমাপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে এসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. এম. এ. মান্নান। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ ও স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজক ডা. এম. এ. মান্নান বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। সন্তানের জন্মবার্ষিকীকে মানুষের সেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা এবং মরহুম দাদার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলে মাহির, বড় ছেলে মুকতাদির এবং ভাতিজি মাছুমার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পাশাপাশি মরহুম দাদা আইয়ূব আলী, নানা আজমত আলী, চাচা কাইয়ূম এবং প্রয়াত দাদি ও নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র নাগরপুর বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করা।

মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

আসাদুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে সাফল্য ধরে রেখে আবারও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এবার কলেজটি থেকে মোট ১৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পাসের হার ৬২ শতাংশ। বস্তুনিষ্ঠ ও গুণগত শিক্ষার ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষায় উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে অবস্থান তৈরি করে আসছে। শুধু উপজেলা পর্যায়ই নয়, ইতিপূর্বে ২০০৯, ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যেও প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব দেখিয়েছিল কলেজটি। তারই সুসংহত ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও উপজেলার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলো সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।
প্রতিষ্ঠানের এই চমকপ্রদ সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- “আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আল্লাহর অশেষ রহমতে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফলের জন্য আমি সমগ্র এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজনদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

মোঃ জুয়েল মিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

 

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনালে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় জোরপূর্বক দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঃ কাদের ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ রাজা মিয়া (৫৬)।

​বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অনুমোদিত মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর থেকে তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন ককটেল, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তা দখলের চেষ্টা চালায়।

​অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় আঃ কাদের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনাল এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। একই সময়ে ২ নম্বর অভিযুক্ত সুমন ধারালো চাপাতি দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ভাঙচুর ও তছনছ করেন। হামলাকারীরা সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কার্যালয়টি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে কেউ প্রবেশ করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।

​এ ঘটনায় নিজের ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদেরের মতামত চাওয়া হলে তিনি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।

​মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।