সংবাদ প্রচারেই সীমাবদ্ধ নন, অসহায় মানুষের আস্থার প্রতীক ভোলার তরুণ সাংবাদিক ইয়ামিন
ছবি- সংগৃহীত
সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য শুধু সংবাদ প্রচার নয়, মানুষের কষ্টকে সামনে এনে সহযোগিতার পথ তৈরি করাও—তার আরও একটি জ্বলন্ত উদাহরণ তৈরি হলো ভোলায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে ভোলার রাজাপুরের অসহায়, স্বামী-সন্তানহীন বৃদ্ধা মনেজা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন সৌদি আরব প্রবাসী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব আবুল কাশেম মাতাব্বর।
আজ শনিবার (৪ঠা জুলাই) মনেজা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে তিন মাসের খাবার সামগ্রী, নতুন পোশাক ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনেজা খাতুনের মানবেতর জীবনযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বৃদ্ধ বয়সে দেখার মতো কেউ না থাকায় চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর।
ভিডিওটি নজরে আসে ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের সন্তান, সৌদি আরব প্রবাসী আবুল কাশেম মাতাব্বরের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই সংবাদকর্মী ইয়ামিন হোসেনের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত মনেজার খোঁজ-খবর রাখা শুরু করেন।
আজ মনেজা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে ৩ মাসের খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ামিন হোসেন (ভোলা প্রতিনিধি, গ্লোবাল টেলিভিশন ও দৈনিক আমাদের সময়) অনিক আহমেদ (ভোলা প্রতিনিধি, চ্যানেল নাইন) বনি আমিন (ভোলা প্রতিনিধি, দৈনিক সরেজমিন পত্রিকা) কবির ফরাজী (স্থানীয় ব্যবসায়ী) ডা. বিল্লাল হোসেন (পল্লী চিকিৎসক) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
খাদ্য ও নগদ অর্থ পেয়ে অশ্রুসজল চোখে বৃদ্ধা মনেজা খাতুন প্রবাসী আবুল কাশেম ও উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মন খুলে দোয়া করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী জানান, প্রবাসী আবুল কাশেম মাতাব্বর দীর্ঘদিন ধরেই নীরবে-নিভৃতে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। জানা গেছে, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত আয়ের ২৫ শতাংশ অর্থ ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের কল্যাণে দান করে থাকেন।
প্রবাসী আবুল কাশেমের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। তাঁরা মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীরা যদি এভাবে নিজ নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তবে সমাজে আর কোনো মানুষ অনাহারে বা কষ্টে থাকতে হতো না।



















