বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গোধূলির ধানক্ষেতে লক্ষ্মী-ববিতার আলাপন ; সংগ্রাম, স্বপ্ন ও টিকে থাকার লড়াই

মোঃ মাফরুজ্জামান (মাহাফুজ) প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৩ এএম
গোধূলির ধানক্ষেতে লক্ষ্মী-ববিতার আলাপন ; সংগ্রাম, স্বপ্ন ও টিকে থাকার লড়াই

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাঁশগাড়া। গোধূলির আলো ধীরে ধীরে নেমে এসেছে ধানক্ষেতের ওপর। পশ্চিম আকাশে লালচে সূর্য ডুবে যাচ্ছে, জমির পানিতে তার প্রতিফলন ঝিকমিক করছে। সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে এখনো রোপা লাগাচ্ছেন লক্ষ্মী রাণী আর ববিতা রাণী। হাতের গতি কিছুটা ধীর, কিন্তু কথার ভাঁজে জমে আছে দিনের সারাংশ।
লক্ষ্মী রাণী আকাশের রঙ বদলাতে বদলাতে বললেন,
“দিন ফুরায়, কাজ ফুরায় না। চালের দাম যেভাবে বাড়ছে, এ ধান যদি ঠিকমতো না হয়, সংসার টিকবে কীভাবে?”
ববিতা কাদামাটি থেকে চারা তুলে সারিতে বসাতে বসাতে জবাব দিলেন,
“ধান ফলালেও কি আর নিশ্চিন্তি আছে? সার, বীজ, কীটনাশক সবকিছুর দাম বাড়ছে। হিসাব কষতে গেলে লাভের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি।”
গোধূলির শান্ত দৃশ্যের ভেতর তাদের কথায় ধরা পড়ে গ্রামীণ অর্থনীতির অস্থিরতা। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত নয়। কৃষক যেমন চাপের মুখে, তেমনি ভোক্তাও মূল্যবৃদ্ধিতে ক্লান্ত। এই দ্বৈত সংকট যেন সন্ধ্যার আলো অন্ধকারের মতোই অনিশ্চিত।
লক্ষ্মী রাণী একটু থেমে বললেন,
“আগে পরিবারের সবাই মিলে কাজ করতাম। এখন ছেলেরা শহরে যেতে চায়। মাঠে দাঁড়াতে চায় না। মজুরি দিতে গেলে অর্ধেক লাভ চলে যায়।”
ববিতা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“তবু তো থামা যায় না। বাজারে গেলে দেখি তেল, ডাল, লবণ সবকিছুর দাম বেড়েছে। সংসার চালানোই যেন বড় যুদ্ধ।”
গোধূলির হালকা বাতাসে তাদের শাড়ির আঁচল দুলে ওঠে। দূরে গরু, ছাগল ঘরে ফিরছে, গ্রামের মসজিদে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। এই সময়টাতে কাজ গুটিয়ে নেওয়ার কথা, কিন্তু তারা শেষ সারির চারা বসাতে ব্যস্ত।
কথা ঘুরে যায় সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে।
লক্ষ্মী রাণী বললেন,
“মেয়েটাকে কলেজে পড়াতে চাই। যেন আমাদের মতো শুধু জমির ওপর ভরসা করে না থাকতে হয়।”
ববিতা সায় দিলেন।
“আমরাও চাই ওরা ভালো থাকুক। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে চাকরি কোথায়? গ্রামে কাজ নেই, শহরে গেলে খরচ বেশি।”
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ পরিবারগুলোর বাস্তবতা এমনই কৃষি টিকে আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। জলবায়ুর অনিশ্চয়তা নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
লক্ষ্মী রাণী পশ্চিম আকাশের মেঘের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আবহাওয়ার ঠিক নেই। কখন বৃষ্টি, কখন খরা, বোঝা যায় না। গত বছর বন্যায় অনেক ক্ষতি হলো।”
ববিতা মাথা নাড়লেন।
“আমাদের সব ভরসা এই জমি। কিন্তু জমিও আগের মতো স্থির নেই।”
গোধূলির আলো আরও ম্লান হয়। পানির ভেতর রোপা চারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন নতুন দিনের প্রতিশ্রুতি। সারাদিনের ক্লান্তি সত্ত্বেও তাদের চোখে নিভে যায়নি আশার দীপ।
এই দুই নারী শুধু নিজেদের সংসার নয়, দেশের কৃষিরও নীরব চালিকাশক্তি। অনেক পুরুষ বাইরে কাজের খোঁজে চলে যাওয়ায় মাঠে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঋণপ্রাপ্তি বা বাজার ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা এখনো সীমিত। তবু তারা থেমে নেই।
লক্ষ্মী রাণী শেষ চারা বসিয়ে বললেন,
“কষ্ট করতে ভয় নেই। শুধু চাই, পরিশ্রমের দামটা যেন পাই।”
ববিতা দৃঢ় কণ্ঠে যোগ করলেন,
“ধান ভালো হলে, দাম ঠিক থাকলে আমাদেরও মুখে হাসি থাকবে।”
সূর্য পুরোপুরি ডুবে যায়। আকাশে গাঢ় নীল অন্ধকার নেমে আসে। তারা ধীরে ধীরে জমি থেকে উঠে বাঁধের দিকে হাঁটেন। পেছনে রয়ে যায় সারি সারি রোপা যেন গোধূলির বুক চিরে বোনা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। বাঁশগাড়ার সেই সন্ধ্যা শুধু দিনের সমাপ্তি নয়; এটি সংগ্রাম আর আশার সহাবস্থানের এক জীবন্ত
নিদর্শন।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।