বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বকশীগঞ্জে পাথর আমদানি বন্ধে নিস্তব্ধ বন্দর, পথে বসার উপক্রম শ্রমিকদের

মোহাম্মদ আরমান, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম
বকশীগঞ্জে পাথর আমদানি বন্ধে নিস্তব্ধ বন্দর, পথে বসার উপক্রম শ্রমিকদের

ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে টানা প্রায় তিন মাস ধরে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের কার্যক্রম স্থবির থাকায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বন্দরের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ী।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকেই ভারত থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর আগেও ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে বন্দরটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারত থেকে আমদানি করা পাথরের সঙ্গে আসা মাটি ও ধুলাবালির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক, বাড়তি পোর্ট চার্জ, ভারতের মেঘালয় অংশের সড়কের দুরবস্থা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে পাথর আমদানি করে লোকসানের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা আপাতত আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর অনেকটাই প্রাণহীন। বন্দরের বিভিন্ন স্থানে পড়ে রয়েছে শত শত পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন। দীর্ঘদিন ধরে এসব মেশিন চালু না থাকায় শ্রমিক ও কারিগরদেরও কাজ নেই।

শুধু পাথর ভাঙার শ্রমিকই নন, বন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক, গাড়িচালক, ক্রাশার মেশিনের কারিগর, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক সংসারের খরচ চালাতে ধারদেনা করছেন এবং কেউ কেউ চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পাথর ভাঙার শ্রমিক খোকন মিয়া বলেন, “অনেক দিন ধরে কাজ বন্ধ। আয় না থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। কিস্তি দিতে পারছি না, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারও ঠিকমতো করতে পারছি না। দ্রুত পাথর আমদানি শুরু না হলে আমাদের আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

ধানুয়া কামালপুর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য বিকাশ দত্ত বলেন, পাথরের সঙ্গে আসা মাটি ও ধুলাবালির জন্য আলাদা শুল্ক পরিশোধ করতে হলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ হয়। এর সঙ্গে ভারতের সড়ক যোগাযোগের সমস্যাও রয়েছে। এসব বিষয় সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের আবার আমদানিতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৪ সালে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন হিসেবে ধানুয়া কামালপুরের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৫ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইমিগ্রেশন ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বর্তমানে বন্দরের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এই বন্দরের মাধ্যমে ৩৪টি পণ্য আমদানির অনুমোদন রয়েছে। তবে বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে বন্দরটির আমদানি কার্যক্রম মূলত পাথরনির্ভর। ফলে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা দ্রুত শুল্ক জটিলতা, সড়ক যোগাযোগের সমস্যা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন করে আমদানি কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন আকন্দ বলেন, “ভারতের অংশে সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লোকসানের আশঙ্কার কারণেও বর্তমানে আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং পুনরায় বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি শুরু হবে।”

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।