বকশিগঞ্জে সাংবাদিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের ধানের শীষে ভোট চাওয়া—নেপথ্যে কী?
Oplus_131072
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিও। সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের এক চেয়ারম্যানের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু একটি স্থানে দাঁড়িয়ে জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বকশিগঞ্জসহ জামালপুরজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতা-কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৫ জুন বকশিগঞ্জ উপজেলায় ৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি মাহমুদুল আলম বাবু। ঘটনার সময় তিনি সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ১০ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা মামলাও হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তফসিল ঘোষণার পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের পর হঠাৎ করেই তিনি প্রকাশ্যে এসে বিএনপির পক্ষে ভোট চাওয়া শুরু করেন।
স্থানীয়দের অনেকের প্রশ্ন একজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামি হয়ে হঠাৎ বিএনপির পক্ষে ভোট চাওয়ার উদ্দেশ্য কী? কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি কৌশলগত অবস্থান বদল করছেন। আবার অনেকের ধারণা, এটি বিএনপিকে বিব্রত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লা বলেন, “সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার আসামি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে ধানের শীষে ভোট চাইছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি ওই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বকশিগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট চাওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা।
সব মিলিয়ে, নাদিম হত্যা মামলার আসামির ধানের শীষে ভোট চাওয়ার ঘটনাটি নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের মাঠেও।



















