বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ভেড়ামারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ, ছিনতাইচেষ্টায় জনতার হাতে ২ দুর্বৃত্ত আটক।

তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ভেড়ামারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ, ছিনতাইচেষ্টায় জনতার হাতে ২ দুর্বৃত্ত আটক।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এক পেয়ারা ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকে অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার বারোমাইল এলাকার মাহাবুল এবং চাঁদগ্রাম লালুর মোড় এলাকার সুমন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে মহাসড়ক দিয়ে পেয়ারা ব্যবসায়ী গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত গতিরোধ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা দাবি করে। বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের ভেড়ামারা থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

তবে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের এই অংশে মাঝেমধ্যেই ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল ও অপরাধপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ গত ১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ২০ দিনের কিছু বেশি সময়ে ভেড়ামারা থানা-পুলিশ বিপুল পরিমাণ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ১৭ জন মাদক কারবারি এবং ৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুধু অপরাধ দমনই নয়, মানবিক ও প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ভেড়ামারা থানা-পুলিশ। সম্প্রতি রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক মা ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার, নিখোঁজ হওয়া ৩ জন শিশুকে উদ্ধার এবং অপহরণের শিকার ২ জনকে দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গোৎসবে উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপে নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করেছে থানা-পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক বিষয়ে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ বলেন, “আমরাভেড়ামারা উপজেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও শান্তিকামী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতেবদ্ধপরিকর। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হবে। যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সাড়া দেওয়া, সঠিক তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা এবং পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কে ছিনতাইচেষ্টার সময়ে সাধারণ মানুষের সাহসিকতা ও সচেতনতা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এবং সাধারণ জনগণের এই দায়িত্বশীল সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভেড়ামারার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি হবে।

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীর মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে ২।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | সকালের বার্তা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগে নাসিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার শহিদুলের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে মসজিদপাড়া এলাকার জনে শেখের ছেলে মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, হামলার সময় নাসিমা খাতুন বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর পুত্রবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে,ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের জেরে বিস্ফোরণের অভিযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিন।

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার হল থেকে। পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে বন্ধ মেট্রো-স্টেশন

মো: অমিত হাসান ঢাকা, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।