ভেড়ামারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ, ছিনতাইচেষ্টায় জনতার হাতে ২ দুর্বৃত্ত আটক।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এক পেয়ারা ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকে অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার বারোমাইল এলাকার মাহাবুল এবং চাঁদগ্রাম লালুর মোড় এলাকার সুমন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে মহাসড়ক দিয়ে পেয়ারা ব্যবসায়ী গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত গতিরোধ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা দাবি করে। বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের ভেড়ামারা থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
তবে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের এই অংশে মাঝেমধ্যেই ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল ও অপরাধপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ গত ১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করেছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ২০ দিনের কিছু বেশি সময়ে ভেড়ামারা থানা-পুলিশ বিপুল পরিমাণ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ১৭ জন মাদক কারবারি এবং ৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুধু অপরাধ দমনই নয়, মানবিক ও প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ভেড়ামারা থানা-পুলিশ। সম্প্রতি রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক মা ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার, নিখোঁজ হওয়া ৩ জন শিশুকে উদ্ধার এবং অপহরণের শিকার ২ জনকে দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গোৎসবে উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপে নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করেছে থানা-পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক বিষয়ে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ বলেন, “আমরাভেড়ামারা উপজেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও শান্তিকামী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতেবদ্ধপরিকর। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হবে। যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সাড়া দেওয়া, সঠিক তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা এবং পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কে ছিনতাইচেষ্টার সময়ে সাধারণ মানুষের সাহসিকতা ও সচেতনতা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এবং সাধারণ জনগণের এই দায়িত্বশীল সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভেড়ামারার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি হবে।


















