মাদক সম্রাট জুতা মাসুদ দারোরা থেকে গ্রেফতার
ভারত সীমান্ত কাছাকাছি হওয়ায় মাদকের হটস্পট কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা। এই উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে মাসুদ (৩৫) এক দশক ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত। বাবার জুতার দোকানে সময় দিতেন একসময়। পরে মোবাইল মেরামতের দোকান দিয়েছিলেন মাসুদ। কোনো রকম টেনেটুনে সংসার চলত তাঁদের। এখন মাসুদের উত্থানের কাহিনী সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। কাঁধে চারটি মামলা থাকলেও মাদক ব্যবসা করে তাঁর সাফল্যের ঝুড়িতে আছে একাধিক গাড়ি, ঢাকায় বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট, মুরাদনগর উপজেলা সদরে বাড়ি ও ব্যাংকে কাড়ি কাড়ি টাকা। এই উপজেলার ২২ ইউনিয়নের শতাধিক লোক মাদকের কারবারে জড়িয়ে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই তাঁরা আড়ালে-আবডালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সখ্য রেখে চলেন কিছু সাংবাদিক, নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও। উপজেলা কমপ্লেক্সের পেছনে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। এই এলাকায় তিনতলা নজরুল ভিলায় থাকেন মাসুদ। আবাসিক এলাকার প্রবেশপথসহ দৃশ্যমান ও অদৃশ্য
মাসুদ
বহু সিসি ক্যামেরায় নজরদারি
মাদক পৌঁছে দিতে ২৩ মোটরসাইকেল, দুই
প্রাইভেট কার
বহু স্থানে লাগানো আছে সিসি ক্যামেরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাঁর গণ্ডির আধা
কিলোমিটারের মধ্যে এলেই টের পান মাসুদ। তাই গত এক বছর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাসুদের এক সহকর্মী বলেন, ‘আগে বিকাশ বা নগদে টাকা পেমেন্ট করলেই মাদক পৌছে দেওয়া হয়। এই কাজে ২৩টি মোটরসাইকেল ও দুটি প্রাইভেট কার ব্যবহৃত হয়। কে কখন কোথায় মাদক নিয়ে যাবে, তা সরাসরি মাসুদ ডিল করেন। পলিথিনে মুড়িয়ে গাড়ির তেলের ট্যাংকির ভেতরে করে ইয়াবা ও সবজি (গাঁজা) পৌঁছে দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গতিবিধি জানানোর জন্যও কর্মী নিয়োগ করা আছে। সে মিনিট দশেক পর পর আপডেট দেয়। মাসুদ যখন ঘুমান তখন শিল্পী নামের এক নারী দায়িত্বে থাকেন।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকা যেন মাদকের হাট বানিয়েছেন মাসুদ। তাঁর এখানে কিছু বিশেষ বিশেষ লোকের আসা-যাওয়া দেখে স্থানীয়রা হতবাক। ভয় নিয়ে মুখ বন্ধ করেই চলাচল করতে হচ্ছে।
মুরাদনগর থানার পুলিশ বলেন, ‘আমারা ভয়ে মাসুদ ইন্ডিয়া সহ নানা জায়গায় পালিয়ে বেড়ায়। আশা করছি সহসাই তাকে আটক করতে পারব।’





















