শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

দেবীগঞ্জে কাঁচা রাস্তা এইচবিবি করনে অনিয়ম, সিংহ ভাগ টাকা লুটপাটের অভিযোগ

এস এম আসাদুজ্জামান, দেবীগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
দেবীগঞ্জে কাঁচা রাস্তা এইচবিবি করনে অনিয়ম, সিংহ ভাগ টাকা লুটপাটের অভিযোগ

ছবি- সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মড়াতলি থেকে মাঝাপাড়া পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় এইচবিবি করনের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

৯ফুট প্রস্থ আর ৩২৮ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ প্রকল্পের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুই দফায় ইতিমধ্যে প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে। নিম্ন মানের কাজ করার কারনে রাস্তার ইট ধসে গিয়েছিল। পরে আবার সেগুলো সংস্কার করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে এই প্রকল্পের পনেরো লক্ষ টাকার মধ্যে তিন ভাগের দুভাগ টাকা আত্বসাত করা হয়েছে আর একভাগ টাকার কাজ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারনা সরজমিনে গিয়ে প্রকল্পের কাজটি যাচাই করলে দেখা যাবে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে ও বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য আরো বাড়তো।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরে বরাদ্দ বিভাজনে এ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত নাই। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আইন ও পরিপত্রের বহির্ভূত ভাবে প্রকল্পটি গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা পরিপত্রটিকে বৃদ্ধাংগলী দেখানোর সমান।

বরাদ্দটির তালিকা দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ হতে দেয়া হয়নি। বরাদ্দটি পরিষদের রেজুলেশনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মনগড়া ভাবে প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়েছে।

পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট প্রকল্প কমিটির সভাপতি হয়েছেন দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুরুজ্জামান। কমিটির বাকি চার সদস্যরা হল সম্পাদক ইসাদুল সদস্য পদে চর তিস্তাপাড়ার বাদশা, মরাতল্লীর সবুজপাড়ার আবু বকর ও আশ্রায়ন প্রকল্পের জলিল। এলাকায় গিয়ে প্রকল্পের সদস্যদের খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে বাকি সদস্যদের নাম ও স্বাক্ষর ভুয়া। টাকা আত্বসাত করার জন্যই ভুয়া কমিটি করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি নুরজ্জামান জানান, আমি নামে মাত্র প্রকল্প সভাপতি হলেও প্রকল্পের পুরো কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। পিআইও নিজেই রুবেল নামে এক ঠিকাদার দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তবে প্রকল্পের কাজে সিংহ ভাগ অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন কিছুটা অনিয়ম হয়েছে।

প্রকল্পের সম্পাদক করা হয়েছে সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসাদুল হককে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রকল্পের কমিটিতে থাকতে পারেন না। এবিষয়ে তিনি জানান, কত টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছিল সেটা বলতে পারবো না। তবে কাজটি পিআইও নিজে করেছে। কাজের মান কেমন হয়েছে তাও বলতে পারবো না। আর প্রকল্প কমিটির বাকী সদস্যরা কে কে তাও জানিনা। কোন কিছুই আমরা জানিনা।

কতটুকু কাজ করা হয়েছে, কত টাকা খরচ করা হয়েছে কারো কাছে কোন তথ্যই নাই কারো কাছে। বাস্তবে কাজের সাথে ইস্টিসেটের কোন মিল নেই। দায়সারা ভাবে করা হয়েছে প্রকল্পের কাজ।

জানা যায়, উক্ত প্রকল্পে ধারনা করা হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার ইট বসানো হয়েছে তাতে ইটের মূল্য প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার এবং সেখানে মিস্ত্রি খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখের মত এবং বালু ফেলানো হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মত। সব মিলে খরচ খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ১৫ হাজার। বাকি টাকা আত্বসাত করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকার লোকজনেরা জানান, এখানে যে পরিমান ইট, বালু আর মাটি দেয়া হয়েছে বিশেষ করে ইট। তার হিসেব করলেই খরচের প্রকৃত পরিমান বের হয়ে আসবে। তারা জানান প্রকল্পের কমিটির সদস্য নামে মাত্র হলেও পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় নিজেই বালু, ইট সরবরাহ করেছেন। মিস্ত্রিদের নিজেই মালামালের টাকা প্রদান করেছেন।

তারা আরও বলেন, অন্য জায়গার ইন্জিনিয়ার ও দুদক দিয়ে তদন্ত করলেই তাদের অনিয়ম বের হয়ে আসবে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, প্রকল্পের কাজ আমি কেন করবো, মেম্বার নিজে কাজ করছে। তার একাউন্টে টাকা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, টিএনও এবং আমি সহ মাপ ঝোক করে কাজ করা হয়েছে। কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, প্রকল্পের সভাপতিকে আমার কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। কথা বলতে বলেন আমার সাথে। পরে বিষয়টি দেখতেছি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট এবং জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর সাহার মোবাইলে ফোন দেয়ার পর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।