কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও খামখেয়ালিপনা: কসবার গোপিনাথপুর ইউপি হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
ছবি- গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী মোসাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নিয়মিত দেরি করে আসা এবং দাপ্তরিক কাজে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস সময় শুরু হলেও তিনি প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১০.৩০ মিনিট থেকে ১১ টার আগে অফিসে উপস্থিত হন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই হিসাব সহকারীকে সময়মতো পান না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেককেই ফিরে যেতে হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, দেরি করে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি সবসময় ‘উপজেলায় মিটিং ছিল’ বলে অজুহাত দিয়ে থাকেন।

সম্প্রতি একজন ভুক্তভোগী সেবা না পেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের অফিসে আসার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অর্থাৎ সকাল ১১টার দিকে তিনি খোশমেজাজে অফিসে প্রবেশ করছেন।
ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি জানান:
“আমরা দূর-দূরান্ত থেকে কাজের জন্য ভোরে আসি। কিন্তু ম্যাডামের দেখা পাওয়া যায় না। তিনি যখন আসেন, তখন অর্ধেক দিন পার হয়ে যায়। প্রশ্ন করলে বলেন মিটিংয়ে ছিলেন, অথচ প্রতিদিন কি মিটিং থাকে?”
সরকারি বিধি মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তবে জান্নাতুল ফেরদৌসের এই নিয়মিত দেরিতে আসার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো শক্ত পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি বরাবরের মতোই দাপ্তরিক ব্যস্ততার অজুহাত দেখান। তবে ভিডিও প্রমাণের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
গোপিনাথপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, একজন সরকারি কর্মচারীর এমন অপেশাদার আচরণ ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।



















