নির্বাচিত হলেও গেজেট প্রকাশ হবে না চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এবং ফটিকছড়ি আসনের
নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে বিএনপি মনোনীত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উভয় প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে তাঁরা বিজয়ী হলে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট যমুনা ব্যাংক নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
এরপর ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট উভয় রিট খারিজ করে দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত সোমবার লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন মঙ্গলবার আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রও রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করলে আদালত ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে নুরুল আমিন লিভ টু আপিল করেন। গতকাল আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।



















