ঢাকার ধামরাইয়ে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে জলিল, আরিফ, জমির আলী ও জিহাদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আব্দুল গফুর, তার ভাই আব্দুর সফুর এবং গফুরের দুই ছেলে আওলাদ ও ওয়ারেছ আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কাটাবই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল গফুর ও তার ভাই আব্দুর সফুর ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে জমির আলীসহ কয়েকজন বিভিন্ন সময় জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর জমির আলী, আরিফ, জিহাদসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে ওই বসতবাড়িতে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় তারা করাত, চাপাতি, ছেন ও দা জাতীয় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বসতবাড়ির আঙিনায় থাকা কয়েকটি ফলজ গাছ কেটে ফেলে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
এ সময় আব্দুল গফুর ও তার দুই ছেলে আওলাদ এবং ওয়ারেছ বাধা দিলে তাদের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তারা।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জমির আলী। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ওই জমির মালিক তারা। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তারা জমিতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। পরে তারা সেখান থেকে চলে আসেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে ধামরাই থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বসতবাড়িতে হামলা, গাছপালা কাটা বা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা হলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।