শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফ্যাক্টর হতে পারে এই ভোট

মোঃ জামির হোসেন সরকার, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফ্যাক্টর হতে পারে এই ভোট

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কুমিল্লার ১১ সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ জন এবং নারী ৮ হাজার ২৯৫ জন। সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট নিবন্ধন করেছে কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসন থেকে ১৩ হাজার ৯৩৮ জন জন।

প্রবাসী ছাড়াও এসব ভোটারের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিরত, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, দুইটি আলাদা ভ্যেনুতে ১১ টি কেন্দ্রে এসব ভোট গণনায় মোট ৪৮৭ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। ভোটগ্রহণের দিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে এই ভোট গণনা প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে শুরু হবে।

কুমিল্লার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কুমিল্লা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী সংখ্যা বেশি হওয়ায় পোস্টাল ব্যালট এর সংখ্যাটিও বেশি হয়েছে। যেহেতু প্রতি আসনে গড়ে আট থেকে দশ হাজার পোস্টাল ব্যালটের ভোট রয়েছে সেগুলো কোন কোন আসনে জয় পরাজয়ের জন্য ফ্যাক্টর হতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেখানেই ফ্যাক্টর হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। যে কারণে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সর্তক থাকা উচিত।

আসনভিত্তিক পোস্টাল ব্যালটের ভোটারদের মধ্যে কুমিল্লা-১( দাউদকান্দি -মেঘনা) আসনে পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন ৮ হাজার ৫৯৯ জন যার মধ্য পুরুষ ৭৬৯৯, মহিলা ৯০০, কুমিল্লা -(হোমনা-তিতাস) আসনে পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন ৭ হাজার ২৯০ জন।যার মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৬৪৫, নারী ৬৪৫ জন। কুমিল্লা – ৩ মুরাদনগর আসনে ৯ হাজার ৪৯৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ৫৯১ জন। কুমিল্লা – ৪ দেবিদ্বার আসনে ১০ হাজার ১০৫ জন,যার মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৩৮৯ জন ও নারী ৭১৬ জন। কুমিল্লা -৫( বুড়িচং -ব্রাহ্মনপাড়া) আসনে ১২ হাজার ৩৩০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৩০০ জন ও নারী ১ হাজার ৩০ জন। কুমিল্লা -৬ ( আদর্শ সদর- সিটি করপোরেশন – সদর দক্ষিণ) আসনে ১১হাজার ৯১৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৫৫১জন ও নারী ১ হাজার ৩৬৫ জন। কুমিল্লা -৭ চান্দিনা আসনে ৫ হাজার ৭২২ জন,যার মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৩৯১ জন ও নারী ৩৩১ জন। কুমিল্লা -৮ বরুড়া আসনে ৮ হাজার ৪৪৮ জন, এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৯৯৭ জন ও নারী ৪৫১ জন। কুমিল্লা -৯ ( লাকসাম -মনোহরগঞ্জ) আসনে ১১ হাজার ১৬৩ জন যার মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৪৬১ জন ও নারী ৬৯৪ জন। কুমিল্লা -১০( নাঙ্গলকোট -লালমাই) আসনে ১৩ হাজার ৯৩৮ জন যার মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৯৪ জন ও নারী ৮৪৪ জন। কুমিল্লা -১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে মোট পোষ্টাল ভোটার ১২ হাজার ৫৪১ জন,যার মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৮১৩ ও নারী ৭২৮ জন।

কুমিল্লা-০৬ আসনের ভোটার সৌদি আরব প্রবাসী আফসু ট্যুরস্ এন্ড ট্রাভেলস্ এর সত্বাধিকারি আনিসুর রহমান বলেন, যারা প্রবাসে থাকেন তাদের সব সময়ের একটি আক্ষেপ ছিল তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারে না। এবার সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও মিটেছে। তবে পোস্টাল ব্যালট প্রথম ব্যবহার ব্যবহৃত হয় অনেকে ভুল করেছে বলে শুনেছি। তারপরও সরকারকে ধন্যবাদ যে পোস্টাল ব্যালট এর ব্যবস্থা করেছে। আমরা চাই আমাদের ভোটাধিকার দেশের সরকার গঠনে কাজে লাগুক।

প্রবাসী খোরশেদ আলম নাঈম হোয়াটসঅ্যাপ মধ্যমে বলেন, দেশের বাইরে থাকায় নির্বাচনে ভোট দিতে পারি না এটি একটি আক্ষেপ ছিল। এবার পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। আশা করব আমার ভর্তি দেশের কাজে লাগবে।

মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে একটি কক্ষে আসা পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিংয়ে এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এসব পোস্টাল ব্যালট নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। কেন্দ্রে ভোট গণনার মত পোস্টাল ব্যালটের ভোটগুলো গণনা করার জন্য কুমিল্লাতে দুইটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ভ্যানুতে আলাদা আলাদা কক্ষে ১১ টি আসনের পোস্টাল ব্যালট গুলো গণনা করা হবে। প্রতি ৩০০ টি পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন করে পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং গণনার সময় সকল প্রার্থীর এজেন্দ্রা উপস্থিত থাকবেন। তবে পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় টি একটু বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যে কারণে শুধু দেশের ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনার পর মূল ফলাফল প্রত্যাশা না করে বরং পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল সহ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশা করাকেই সঠিক হবে বলে জানাচ্ছেন প্রার্থীদের।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, ‘দুই ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিং করে গ্রহন করা শুরু হয়েছে। ডাকঘর থেকে আসতে থাকা পোস্টাল ব্যালট স্ক্যান করে কমিশনের ওয়েব সাইটে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।তারপর আমরা সেগুলো ব্যালট বাক্সে রেখে ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করছি। এখন থেকে আমাদের ১২ তারিখ বিকেল ৪ টা ৩০ পর্যন্ত যত ব্যালট আসবে আমরা এভাবেই অন্তর্ভুক্ত করবো। প্রথম দিনে ৩৬৪ টি এবং দ্বিতীয় দিনে ৯ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট আসে, যা কিউআর স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে অন্তঅন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আমাদের দুইটা ভ্যেনুতে ১১ টি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট গুনতে হবে।’

তিনি আরো বলেন,’যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন তাদের একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তাদেরকে আগে কিউআর স্ক্যান করে তারপর ভোট দিতে হবে। তার যদি সেটি স্ক্যান করা না থাকে, তাহলে আমরা এখানে যখন আবার সেটি গ্রহণ করার সময় স্ক্যান করছি তা কমিশনের ওয়েবসাইটের সাথে মিলবে না। তাই যারা ভোট দিবেন তারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ভোট দিতে হবে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।