শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ভোলা জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট চক্রের কাছে অসহায় রোগীরা

মোঃ সবুজ, ভোলা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ভোলা জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট চক্রের কাছে অসহায় রোগীরা

ছবি- সকালের বার্তা

চার-পাঁচ দিন আগে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত মাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার জয়া এলাকার দিনমজুর কবির হোসেন। মাকে বাড়িতে নিতে হাসপাতালের সামনে থাকা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের চালকের সঙ্গে কথা বলেন কবির। অ্যাম্বুল্যান্সটি সকালে চরফ্যাশন থেকে রোগী নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছে।
চালক জসিম উদ্দিন রোগীর স্বজনের কাছে ২৪০০ টাকা ভাড়া চাইলেও পরে দুই হাজার টাকায় রাজি হন। কিন্তু এরই মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের চালকরা। তারা চালক জসিমকে ডেকে নিয়ে রোগী না নেওয়ার জন্য বলেন। এরপর মাকে বাড়ি নেওয়ার জন্য হাসপাতালের সামনে প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় কবিরকে। তিনি জানান, তারা প্রথমে সরকারি একটি অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে কথা বলেন। সেটি ২৪০০ টাকা চাইলেও পরে দুই হাজার টাকায় রাজি হয়। কিন্তু রোগী নিয়ে নিচে এসে জানতে পারেন সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স যাবে না। তাই প্রাইভেট অ্যাম্বুল্যান্সে করে মাকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুল্যান্স চালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি প্রথমে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুই হাজার টাকায় ভাড়া ঠিক করেছেন। পরে সেখানে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা জানান, তারা একই ভাড়ায় বোরহানউদ্দিনে যাবেন এবং তাকে রোগী না নিতে বলেন। তাই তিনি আর কথা বাড়াননি। ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে রোগীর সঙ্গে এরকম ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।
অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ও মালিকরা সিন্ডিকেট করে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে এসব অ্যাম্বুল্যান্স মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে। তাদের দৌরাত্ম্যের কাছে হাসপাতালে আসা রোগীরা জিম্মি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগী পরিবহনের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কম্পাউন্ডের মধ্যে ২০টির বেশি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে। এর মধ্যে হাসপাতালের সরকারি তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সগুলোই রোগী নিয়ে বিভিন্ন যায়গায় ছুটে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স মালিক ও চালকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোগীর স্বজনদেরকে জিম্মি করে তাদের অ্যাম্বুল্যান্সে উঠতে বাধ্য করছেন। এমনকি নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও। এ ছাড়া হাসপাতালের সামনে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া জেলার অন্য উপজেলা থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগী নিতেও বাধা দেন এখানকার মালিক ও চালকরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন কামরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে তার এক আাত্মীয় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়া তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। তিনি প্রথমে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স খোঁজেন। কিন্তু হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের চালকরা তাকে জানান, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও এখন চালক পাওয়া যাবে না। পরে তিনি বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ১২০০ টাকা দিয়ে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে যান। অথচ সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে এখানকার ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। রোগীর জরুরি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি টাকা আদায় করে এই সিন্ডিকেট। হাসপাতালের সামনে থাকা কয়েকজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোলা সদর হাসপাতালে সরকারি তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও ওইসব অ্যাম্বুল্যান্সে সাধারণ রোগীদের ওঠার সুযোগ হয় না। কারণ সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের চালকরা বেশি টাকা নিয়ে থাকেন। এমনকি বাইরের বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সকেও এখান থেকে রোগী নিতে দেন না এখানকার চালকরা। আর এসব অ্যাম্বুল্যান্সের নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকাও নেই। ফলে ইচ্ছামতো ভাড়া চাওয়া হয় রোগীর স্বজনদের কাছে।

আরেক ভুক্তভোগী মো. আলমগীর বলেন, কিছু দিন আগে তার এক আত্মীয় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ভোলা সদরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। কিন্তু রোগীকে ঢাকায় নিতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বললে তারা ১৭ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে অন্য উপজেলার একটি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ১২ হাজার টাকায় রাজি হন।

ভোলা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিলন হাওলাদার সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে বলেন, অন্য উপজেলায় আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স রোগী নিয়ে গেলে আসার সময় সেখানকার অ্যাম্বুল্যান্স মালিক ও চালকরা সেখান থেকে রোগী আনতে দেন না। তাই আমরাও তাদেরকে সদর হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে দেই না। তবে রোগী নিয়ে তারা এখানে আসতে পারেন। এছাড়া অন্য উপজেলা থেকে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ভোলা সদরে আসলে আমারাই রোগী উঠিয়ে দেই তাদের। সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স রোগী নেওয়ার পর যেসব রোগী থাকে, সেই রোগী আমরা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে বহন করে থাকি।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ আবু সুফিয়ান বলেন, হাসপাতালের ভেতর বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য গেইট করতে চেয়েছি। এ বিষয়ে ডিসি অফিস থেকে প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েও পাইনি।
ভোলা জেলা প্রশাসক জনাব মো.শামিম এ ব্যাপারে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদন আমাদের কাছে আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।