যশোর এর শার্শা উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা
ছবি- সকালের বার্তা
যশোর এর শার্শা উপজেলায় এবছর অনুকূল আবহাওয়ায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এ অঞ্চলের আম প্রতিবছর ইউরোপ আমেরিকায় রফতানি হচ্ছে। চলতি বছর এখান থেকে ৭শ’ মেট্রিক টন আম রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। আম চাষীদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। মুকুল থেকে এখন গুটিতে রূপান্তির হয়েছে আম। কালবৈশাখী বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে এ অঞ্চলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষিরা।
শার্শা উপজেলা জুড়ে আম বাগানে ফোটা আমের মুকুল এখন গুটি আমে রূপ নিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর বাগান মালিকদের নিবিড় পরিচর্যায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
শার্শার বাগআচড়া, পুটখালী, গোগা, বসতপুর, কায়বা, জামতলা, রামপুর, পানবুড়ি ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব বাগানেই এখন ছোট ছোট আম গাছে শোভা পাচ্ছে। এ যেন সবুজের এক মহামিলন। নানা ধরনের ফুলের সুবাসের সঙ্গে বাতাসে ভাসছে গুটি আমের মৌ-মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে।
চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমের পরিমাণ অনেক বেশি। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপাল ভোগ ও হিমসাগর আম পাওয়া যাবে বাজারে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টি না হলে এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে আমের উৎপাদন। এ অঞ্চলের বিখ্যাত জাতের আমগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমসাগর, আম্রপালি, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, শার্শা অঞ্চল থেকে এবার ইউরোপ ও আমেরিকায় ৩০০ মেট্রিক টনের বেশি আম বিদেশে রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। মুকুলের অবস্থা ভালো হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে, তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ বা বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ৭১ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর এবং অন্যান্য স্থানীয় জাত ২৪৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
গোগা গ্রামের আম চাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর মাঘের শেষ থেকেই আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়। কুয়াশা কম থাকায় মুকুলগুলো বেশ সতেজ ছিল। আমরা নিয়মিত বাগানে বিষমুক্ত ওষুধ ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করছি। যদি শিলাবৃষ্টি না হয়, তবে এবার অনেক লাভবান হতে পারবো।’
বাগান মালিক কাশেম ব্যাপারী বলেন, আমার ১০ বিঘা জমিতে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আমের বাগান আছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গাছের গোড়ায় পানি ও জৈব সার দিচ্ছি। মুকুলে স্প্রে করেছি। আমরা এখন রাত-দিন বাগান পাহারা দিচ্ছি যেন আমের গুটির কোনো তি না হয়।
















