শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

যশোর এর শার্শা উপজেলার জামতলার মিষ্টি বিশ্বে পরিচিত করেছেন সাদেক গোল্লা

মোঃ আনিছুর রহমান, বেনাপোল যশোর প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম
যশোর এর শার্শা উপজেলার জামতলার মিষ্টি বিশ্বে পরিচিত করেছেন সাদেক গোল্লা

সাদেকের সৃষ্টি জামতলার ঐীতহ্যবাহী মিষ্টি। যে চেনে সে কেনে, এই সত্য প্রবাদ বাক্যটি নিয়েই সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডারের ‘জামতলার সাদেক গোল্লার পথ চলা’। বিপত্তি বেকায়দায়ও যে কারও জীবনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়, তার জলন্ত উদাহরণ তিনি। যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলা বাজারে অবস্থিত সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডার। তার হাতের জাদুতে মিষ্টিপ্রেমীরা এতটাই মোহিত হয়েছেন যে, স্পঞ্জের রসগোল্লা থেকে রস ছড়িয়ে বিশ্বে পরিচিত করেছেন সাদেক গোল্লা। স্বাদে অতুলনীয় এ ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির সুনাম ও কদর ছয় দশকের বেশি সময়েও কমেনি, বরং বর্তমানে এ মিষ্টির সুখ্যাতি যশোর তথা দেশের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়েছে বিদেশেও। স্থানীয় মানুষজনের কাছে সাদেকের মিষ্টি যেন লোভনীয় এক নাম। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যায়ও মিষ্টি প্রেমীদের জটলা লেগেই থাকে। জেলা বা দেশের বাইরে থেকে যশোর বেড়াতে এলে জামতলার মিষ্টির স্বাদ নিতে ভোলে না মিষ্টি প্রেমীরা।

প্রায় ৭০ বছর আগে মিষ্টির দোকানটির সূচনা করেন শেখ সাদেক আলী। সাদেকের মৃত্যুর পর ব্যবসার হাল ধরেছেন তার ছয় ছেলে। এক ছেলে মারা গেছেন। এখন পাঁচ ছেলে এবং এক নাতি সাদেক গোল্লা তৈরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টির দোকানটি পরিচালনায় অুন্ন রেখেছেন বাবার হাতে সৃষ্টি এই মিষ্টির সুনাম। প্রতিদিন সাত থেকে দশ হাজার মিষ্টি তৈরি করা হয় এই সাদেক মিষ্টির কারখানায়। জামতলা ছাড়াও যশোরের বিভিন্ন স্থানে তাদের পাঁচটি আউটলেট রয়েছে। উপজেলার জামতলা বাজারে ‘যে চেনে সে কেনে, সাদেকের সৃষ্টি জামতলার মিষ্টি এই শ্লোগানে যাত্রা শুরু করে সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডার। আগে এখানে মানুষ চা বিস্কুট খেতে এলেও এখন প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন এই মিষ্টি কেনার জন্য। দামে সাশ্রয়ী এবং মানে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় খুশি ক্রেতারাও। সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জামতলায় মিষ্টির ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে চান সাদেকের উত্তরসূরিরা।

সাদেক আলীর বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৫৫ সালে যশোর-সাতীরা সড়কের পাশে অবস্থিত জামতলা বাজারে চায়ের দোকানদার ছিলেন আমার পিতা শেখ সাদেক আলী। প্রতিদিন তার দোকানে গোয়ালারা গরুর দুধ দিয়ে যেত। একদিন প্রয়োজনের তুলনায় দুধের পরিমাণ বেশি হলে সাদেক দুধ কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় কুমিল্লার এক ব্যক্তি সাদেক আলীকে সেই দুধ রেখে দেয়ার অনুরোধ করেন। রাতে ওই দুধ দিয়ে মিষ্টি বানিয়ে দেবেন বলে জানান তাকে। কুমিল্লার সেই ব্যক্তির শিখিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে সাদেক আলী মিষ্টি তৈরি শুরু করেন। সাদেক আলীর সেই মিষ্টির স্বাদ ও গুণাগুণের জন্য এর খ্যাতি ছড়াতে শুরু করে ‘সাদেক গোল্লা’ নামে। পরবর্তী সময়ে এই মিষ্টি তার উৎপত্তিস্থলের নামে ‘জামতলার মিষ্টি’ হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করে। এর সুবাস ও স্বাদের গল্প দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। প্রবাসীরা ফিরে যাওয়ার সময় এখান থেকে মিষ্টি নিয়ে যান। সেই ১৯৫৫-৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাদেক নিজ হাতে মিষ্টি তৈরি করে এর সুনাম অুন্ন রাখেন। তবে তার মৃত্যুর পর মিষ্টির সুনাম ধরে রাখতে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে ছেলেদের। সাদেকের মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে আনোয়ার হোসেন, আলমগীর, শাহিনুর, শাহজাহান, জাহাঙ্গীর ও নূরুজ্জামান ব্যবসার হাল ধরেন। এক ছেলে মারা গেছেন। এখন পাঁচ ছেলে এবং এক নাতি ব্যবসা দেখাশুনা করেন।

জামতলা বাজারে একটি বটগাছের নিচে সাদেক গোল্লার আদি দোকান। সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডার। পরিধি বেড়ে দোকান হয়েছে পাঁচটি। তিনটি জামতলা বাজারে, একটি যশোরের নাভারণ বাজারের সাতীরা বাসস্ট্যান্ডে এবং অপরটি যশোর শহরের দড়াটানায়। দোকান গুলোতে রসগোল্লা ছাড়াও প্রায় সব ধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখান থেকেই জামতলার মিষ্টি সরবরাহ করা হয়। বিয়ে, জন্মদিনসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়ে থাকে জামতলার সাদেক গোল্লা বা জামতলার মিষ্টি। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টিন, ফাস্ট ফুডের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিয়মিত রসগোল্লা সরবরাহ করেন এমন কাজের সাথে যুক্ত অন্তত ৫০ জন।

জামতলার মিষ্টির কারিগর বজলুর রহমান বলেন, আমি মরহুম সাদেক সাহেবের কাছ থেকেই মিষ্টি বানানো শিখেছি। সাদেকের মিষ্টির সুনাম ধরে রাখতে এখনো নিরলস পরিশ্রম করছি। প্রথমেই দুধ জ্বাল দিয়ে ছানা তৈরি করি। তারপর ছানা চেপে পানি ঝরিয়ে টেবিলের ওপর কিছুণ শুকাই। হালকা সুজি মিশিয়ে সেটাকে গোল গোল করে গুছি তৈরি করি। তারপর চিনি দিয়ে শিরা তৈরি করে মিষ্টিগুলো দিয়ে দিই। এরপর অল্প আঁচে এই ছানার বলগুলোকে চিনির সিরাতে সেদ্ধ করা হয়। পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে এলেই তৈরি হয়ে যায় সাদেক গোল্লা।

তিনি আরো বলেন সাদেক গোল্লা এর আগে অনেক কম দামে ছোট সাইজের মিষ্টি বিক্রি করা হতো। বর্তামানে প্রকার ভেদে ১০ টাকা থেকে শুরু করে বড় আকারের সাদেক গোল্লা ৩০/৪০ টাকা, মাঝারি ২০ টাকা এবং ছোট আকারের সাদেক গোল্লা ১০ টাকা করে বিক্রি হয়। একেকটি সাদেক গোল্লার ওজন সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম হয়ে থাকে।

জামতলার সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী শাজাহান কবীর (মরহুম শেখ সাদেক আলীর ছেলে) বলেন, এই মিষ্টি একদম খাঁটি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ মিষ্টি তৈরি করা হলেও স্বাদের কারণে যশোরের সাদেক গোল্লাই বা সাদেক মিষ্টিই সেরা। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত দেশি গরুর দুধ, চিনি আর জ্বালানি হিসেবে কাঠ এ মিষ্টি তৈরির মূলে রয়েছে। এ মিষ্টি প্রতি পিচ হিসেবে বিক্রি করা হয়ে থাকে। প্রতি পিচ দশ টাকা থেকে শুরু করে ৪০ টাকা পর্যন্ত আকারভেদে এ মিষ্টি বিক্রি করা হয়। এ জন্য ধীরে ধীরে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে সাদেক গোল্লা। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ছয় ভাই ধাপে ধাপে ছয়টি আউটলেট নিয়ে যাত্রা শুরু করি। সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করে আমরা বাজারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছি। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটিকে মিষ্টির ইন্ডাস্ট্রি করতে চাই আমরা।

বিক্রয়কর্মী রাহুল জানান, সাদেকের মিষ্টির স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মিষ্টিপ্রেমীরা। কেউ আবার নিয়ম করে প্রতিদিন এই মিষ্টির স্বাদ নিতে আসেন এই দোকানে।

ইসহাক হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, বর্তমানে অনেকেই ডায়াবেটিক্সে আক্রান্ত। সাদেক গোল্লার বিশেষত্ব হলো, এতে সুগার বা চিনির পরিমাণ কম। তাই যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা এই মিষ্টি খেতে পারেন, কোনো সমস্যা হয় না।

মিষ্টি কিনতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, সাদেক গোল্লায় চিনির পরিমাণ কম থাকে স্বাদের বাইরে এটি অনণ্য বিশেষত্ব।

স্কুল শিক্ষক সাথী আক্তার বলেন, সাদেক গোল্লা জনপ্রিয় হওয়ার কারণ, বাজারের অন্য মিষ্টির চেয়ে স্বাদ ভিন্ন। খাঁটি দুধ ও মিষ্টি প্রক্রিয়াকরণ ভালো। সহজে মুখ মরে যায় না। ইচ্ছেমতো খাওয়া যায়। এজন্য ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে সাদেক গোল্লা।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।