শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শার্শায় দাড়িপাল্লার জয়, ২৪ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী মাওলানা আজিজুর রহমান বিএনপির ভরাডুবির পেছনে কোন্দল—মাঠে নানা আলোচনা

হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
শার্শায় দাড়িপাল্লার জয়, ২৪ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী মাওলানা আজিজুর রহমান  বিএনপির ভরাডুবির পেছনে কোন্দল—মাঠে নানা আলোচনা

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৯৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৪ হাজার ৩৮২।

এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭, নারী ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। মোট ১০২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৮০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটের হার ৬৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতের প্রার্থী আজিজুর রহমানের পর বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৭৪১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির চঞ্চল পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬৭ ভোট।

শার্শা উপজেলা দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি সব রাজনৈতিক দলের কাছেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, এ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বাধিক সাতবার জয়ী হয়েছে। দলটির প্রার্থী তবিবর রহমান সরদার ১৯৭৩, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে শেখ আফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এ আসনে তিনবার বিজয়ী হয়েছে—১৯৭৯ সালে আলী তারেক, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং ২০০১ সালে আলী কদর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৮৬ সালে জামায়াতের নূর হুসাইন এবং ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম নজরুল ইসলাম জয়ী হন।

তবে চলতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব ছিল। সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রথমে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন। এ নিয়ে তৃণমূলে বিভক্তি তৈরি হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিএনপির ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। মফিকুল হাসান তৃপ্তি দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়া, পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু মনোনয়ন প্রত্যাশী থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের সমর্থকদের একটি অংশ নিষ্ক্রিয় ছিলেন বা অন্যদিকে ঝুঁকেছেন, এমন আলোচনা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিএনপির ভেতরে ঐক্য থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা কয়েকজন ভোটারও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
তবে বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভেদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, সবাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শুরু থেকেই এককভাবে মাঠে ছিলেন মাওলানা আজিজুর রহমান। দলীয় নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে প্রচারণা চালান। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠিত প্রচারণা পরিচালনা করা হয়। নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, শার্শাবাসী দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমি সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল স্থলবন্দরকেন্দ্রিক এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর সামনে উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান—এসব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শার্শা আসনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই ফল আগামী দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আজিজুর রহমান ৫ হাজার ৮৫৬ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তখন নৌকা প্রতীক পেয়েছিল ৯৪ হাজার ৫৫৬ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছিল ৮৮ হাজার ৭০০ ভোট। ভোটের পার্থক্য ছিল ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।