শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

জামাত–চরমোনাইকে নিয়ে দুটি কথা

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, সন্দীপ (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
জামাত–চরমোনাইকে নিয়ে দুটি কথা

বেশ কয়েকদিন যাবত একটি বিষয় বারবার চোখের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে। জামায়াত–চরমোনাইকে নিয়ে নানান ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা সামনে আসছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, এসব বিষয়ে কোনো কথা বলব না। কারণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো অতটা পছন্দ করি না। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করল কলম হাতে নিতে। তাই শুরুতেই বলে রাখি আমার কথাগুলো স্বতন্ত্রভাবে নেবেন। বাস্তব বিষয় তুলে ধরতে গেলে কারো পক্ষে এবং কারো বিপক্ষে যেতে পারে। সেজন্য অনুরোধ থাকবে, পুরো লেখা পড়ে মন্তব্য করবেন। আংশিক পড়ে গালমন্দ করবেন না।

জামায়াত–চরমোনাইয়ের বিষয়টি একটু শুরু থেকেই আলোচনা করি। ২৪ জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানের একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা এক হবে। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে চরমোনাইয়ের পীর, সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই), দিনরাত মেহনত করে যান। এক পর্যায়ে তিনি কওমি ঘরানার প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একত্র করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের আরেকটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল জামায়াতকেও একত্র করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকেই কওমি অঙ্গনে আলেম–ওলামাদের মাঝে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু তিনি এসবের দিকে কর্ণপাত না করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে জনমানুষের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে ৮ দলের ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে। তখন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে এক ধরনের নতুন আনন্দ ও উৎফুল্লতা কাজ করতে শুরু করে। সবাই এই আট দলের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এই ৮ দল। সবাই উৎফুল্ল হলেও, আমাদের কওমি অঙ্গনের বড়দের একটি বড় অংশ এই সমঝোতার ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা করেন। কারণ, জামায়াত প্রশ্নে তাঁরা আপোষহীন ছিলেন। এদিকে যখন সব ইসলামিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় এবং জামায়াতকেও কাছে টেনে নেয়, তখন বামপন্থীদের মধ্যে নানান ধরনের উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। তারা মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে নানান ধরনের অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করে।

কখনো বলা হয় “চরমোনাই জামায়াতের কাছে ২০০ আসন চেয়েছে”, আবার কখনো বলা হয় “৮ দল ভেঙে গেছে।” এভাবে দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ার নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। আধুনিক যুগে সাধারণ মানুষ মিডিয়ার ওপর ভিত্তি করেই অনেক কিছু বিশ্বাস করে। ফলে যখন মিডিয়া থেকে অপপ্রচার শুরু হয়, তখন মানুষ ভাবতে শুরু করে, আসলে চরমোনাই খারাপ। অথচ বাস্তবে এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলাপচারিতাই হয়নি।

সবার মতো আমিও অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম যে,বাংলাদেশের পার্লামেন্ট একদিন টুপিওয়ালাদের পার্লামেন্টে পরিণত হবে। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন শুনি, চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের সঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির সাহেবের সাক্ষাতের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ছিল; কিন্তু তাঁর অসুস্থতার কারণে সেই সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে আরও নানান আলোচনা–সমালোচনা হতে থাকে।

পরবর্তীতে জানা যায়, জামায়াত কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করেছে। অথচ এই ঐক্যের একটি স্লোগান ছিল এটি কোনো জোট নয়, বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা। অর্থাৎ যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সবার সম্মতিক্রমে নিতে হবে। আরেকটি স্লোগান ছিল আসন বণ্টন হবে যেখানে যার সমর্থন ভালো, সেখানেই তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে শোনা যায়, এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে নাকি জামায়াত ৩০টি আসন কনফার্ম করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মূল নীতির এখানেই লঙ্ঘন ঘটে।

দ্বিতীয় যে স্লোগান ছিল, যেখানে যার লোকবল ভালো সেখানে তাকেই দেয়া হবে, সেটাও তারা মানেনি। এ ধরনের ঘটনার পর ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা জানতে পারি, এত কিছুর পরও চরমোনাইয়ের পীর সাহেব আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসেননি।

এনসিপিকে জোটবদ্ধ করার ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথমদিকে অসন্তুষ্ট থাকলেও পরে মনে হয়েছিল ২৪-এর শক্তিগুলো একসাথে হলে বাংলাদেশ নতুন করে সাজবে। এই আশায় নিয়মিত আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়াও করতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সব কিছুর ফয়সালা করেন আল্লাহ তাআলাই। তিনি যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।

যখন শুনলাম চরমোনাই ঐক্যের টেবিল থেকে সরে এসেছে, তখন খুব খারাপ লেগেছিল। মাদরাসায় থাকার কারণে পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। নানান জনের নানান সমালোচনার কথা শুনছিলাম। শুধু এটুকুই বলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিতাম—আল্লাহ তাআলা যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।

পরবর্তীতে সময়ের পালা বদলায়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। এদিকে মাদরাসার পরীক্ষাও শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে নেট জগতের অবস্থা দেখে আর নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি। অনেক ভাই চরমোনাইয়ের পীর সাহেবকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করছে, আবার চরমোনাইয়ের কিছু ভাই শফিক সাহেবকে নিয়েও কটু কথা বলছে। আমিরে মজলিস জামায়াতের সাথে আছেন, তাই মজলিসের অনেক ভাইও চরমোনাইকে বিভিন্ন ভাষায় কটাক্ষ করছেন।

কিন্তু এখানে একটা কথা মনে রাখি, ঐক্যটা এমন একটা পর্যায়ে ভেঙ্গে গেছে,যে সময় নতুন করে আর কোন ঐক্য করা সম্ভব না। স্বাভাবিকভাবে আমি মজলিস জামাতের সাথে থাকাটাই শ্রেয় ছিল। তাই তিনি সেখানে থেকে গিয়েছেন। এখন এর জন্য অন্যকে গালমন্দ করতে হবে, এটা বোধগম্য না। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো,আমার কওমি অঙ্গনের কিছু ভাইও নানান ধরনের বাজে ভাষায় চরমোনাইকে গালমন্দ করছে। যখন জামায়াতকে জোটে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন তাদের অনেক আপত্তি ছিল। আর এখন নানান জটিলতার কারণে জোট থেকে বের হওয়ায় আবার তাদেরকেই সমালোচনার পাত্র বানানো হচ্ছে।

এখানে আমার কওমি ভাইদের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই,চরমোনাই কারা? তারা কি আমাদের ভাই নয়? তারা কি কওমি অঙ্গনের সন্তান নয়? যদি উত্তর হয়; হ্যাঁ, অবশ্যই তারা কওমি অঙ্গনের সন্তান–তাহলে প্রশ্ন আসে, কেন তাদেরকে ফাসেক–ফুজ্জার, মুনাফিক, এমনকি মুরতাদ পর্যন্ত বলা হচ্ছে?

এই দীর্ঘ আলোচনা করার মূল কারণই হলো ‘মুরতাদ’ শব্দটির ব্যবহার। পরিচিত মানুষদের মুখে এই শব্দ শুনে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি। আপনি কোন যুক্তিতে আপনার নিজের ভাইয়ের ব্যাপারে এমন শব্দ ব্যবহার করছেন?
এর মানে এই নয় যে আমি জামায়াতকে খারাপ বলছি। তাদের সঙ্গে যে মতানৈক্য হয়েছে, তা তারা নিজেরাই স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু অনেকেই শুধু ‘আসন’ বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন। হুজুগে মাতাল হলে দেশ চলবে না। ২০২৬ সালেও যদি আমরা হুজুগে মাতাল হয়ে থাকি, তবে এই দেশের ভবিষ্যৎ সত্যিই অন্ধকার।

আমাদের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের গুণ খুব প্রবল। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে কোনো বিষয়কে ন্যায়সংগতভাবে বিচার করার মানসিকতা আমাদের মধ্যে খুব কম। যাই হোক, আমি বেশি বিশ্লেষণে যেতে চাই না। কারণ বেশি বিশ্লেষণ করলে আমাকেও কোনো এক পক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
সব দিক বিবেচনা করেই কথাগুলো বলেছি। এক কথায় বলতে চাই; মার্কা যার যেটাই হোক, যে সমাজের কল্যাণে কাজ করবে, ইসলামের কল্যাণে কাজ করবে, মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে, অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে এবং প্রকৃত শিক্ষিত, দীক্ষিত, ইসলামের গুণে গুণান্বিত মানুষ হবে,তাকে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থান থেকে সমর্থন জানাবেন।

পরিশেষে আমার প্রত্যেক ভাইয়ের কাছে একটি আবেদন; আমরা কওমি অঙ্গনের সন্তান, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের আদর্শ গালি দেওয়ার আদর্শ নয়। আমাদের আদর্শ হলো মদিনাওয়ালার আদর্শ। যাকে মানুষ গালি দিত, তিনি হাসি দিয়ে তার জবাব দিতেন। অতএব, প্রচলিত রাজনীতির মোহে পড়ে আমরা আমাদের মুরুব্বিদের কোনোভাবেই কটাক্ষ করব না,ইনশাআল্লাহ।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ বাংলা ভিশন

শ্রমিক অসন্তোষের আগুনে পুড়ছে পোশাক খাত। সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন-এফবিসিসিআই। এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন দাবি তাদের। অথচ এর জেরে পোশাক খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর পাশাপাশি রফতানিতে নিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

মজুরি বাড়ানোর দাবিকে ঘিরে রাজপথসহ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রফতানি আয়ের প্রধান উৎস-তৈরি পোশাক খাত।

নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরেও শ্রমিক অন্তোষের যৌক্তিক কারণ দেখছে না এফবিসিসিআই। এই আন্দোলনের ধরণ ও সহিংসতা দেখে প্রশাসক জানিয়েছেন, এটা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিফলন নয়।

পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, কয়েকদিনের টানা আন্দোলনে পাঁচ শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের ফলে ক্ষতি ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সহসাই অসন্তোষ না থামলে নতুন ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা বিশ্লেষকদের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক শিল্পে সংকট মানে শুধু কারখানা মালিকের লোকসান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা। তাই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ এএম
শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সজিবুর রহমান নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় সংলগ্ন খোলা মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান হেনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী রেজাউল করিম, খুবজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি দোরাপ আলী সরকার, বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন, মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান খোকন এবং ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন কাউছার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রামাণিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিম প্রামাণিক, নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজা, খুবজীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সদস্য মো. ইসরাফিল শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শামীম আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাঙ্গা মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন শিংসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। প্রাণভয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা শাকিল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সবশেষে মরহুম শাকিল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

মোঃ রাজিব মিয়া মুরাদনগর উপজেলা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।”

নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমার চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ ছুটি দিয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখেছি, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় বাংলাদেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।