বিয়ের আনন্দ ম্লান করে দিল বেপরোয়া গতি: কাভার্ডভ্যান-অটোভ্যান সংঘর্ষে চাচি-ভাতিজি নিহত
ছবি- সকালের বার্তা
বিয়ের আনন্দ নিমেষেই রূপ নিলো বিষাদে। নতুন কাপড়ে সেজে আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার পথে ঝরে গেল দুটি তাজা প্রাণ। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি অটোভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচি ও তার ৯ বছর বয়সী ভাতিজি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোভ্যানের চালক গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার দ্বিতীয়খণ্ড ঝিনাইরগেট সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— রিমি আক্তার এবং তার ৯ বছর বয়সী ভাতিজি আয়সা আক্তার। তারা পাশের গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা কালবৈশাখী গতির কাভার্ডভ্যান কেড়ে নেয় তাদের জীবন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে রিমি ও আয়সাকে বহনকারী অটোভ্যানটি ঝিনাইরগেট সংলগ্ন এলাকা পার হচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে অটোভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই চাচি ও ভাতিজির মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অটোভ্যান ও কাভার্ডভ্যান—দুটি যানবাহনই অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল। চালকদের এই অসচেতনতা ও গতির প্রতিযোগিতাই এই অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত অটোভ্যানচালককে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় রেফার্ড করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত চালকের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ টিম পাঠায় শিবচর থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান:
”দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে আটক করে জব্দ করা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিয়ের উৎসবের বাড়িটি এখন স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে।
















