গুরুদাসপুরে চোরের তাণ্ডব: এক রাতেই ১২টি সেচ মোটর চুরি, বিপাকে কৃষক
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের পিপলা গ্রামে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তাণ্ডবে এক রাতেই ১২টি সেচ মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে চলতি মৌসুমে ধান চাষে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। সেচের প্রধান অবলম্বন হারিয়ে ফসল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রামের বিভিন্ন মাঠে স্থাপিত সেচ পাম্পের মোটর খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ভোরে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে গিয়ে দেখেন, পাম্পঘর ফাঁকা। কোথাও কাটা বৈদ্যুতিক তার, কোথাও ভাঙা তালা, আবার কোথাও মোটর খুলে নেওয়ার স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। পরে জানা যায়, একই রাতে গ্রামের অন্তত ১২টি সেচ মোটর চুরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুল আলিম মৃধা, রশিদ ফকির, আফজাল ফকির, আলাল শেখ, সাইফুল ইসলাম, রবিউল করিম (৩টি মোটর), সুবির প্রামাণিক, বক্কার হাজী, জরিপ প্রামাণিক ও সাত্তার প্রামাণিক। কৃষকদের দাবি, এক রাতেই কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ ধানের ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধ পাম্পঘরগুলো চুরির ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেচ মোটর হারিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের ভাষায়, একটি সেচ মোটর শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং পুরো মৌসুমের ফসল রক্ষার প্রধান ভরসা।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল আলিম মৃধা বলেন, “সারা বছর কষ্ট করে টাকা জমিয়ে মোটর কিনেছিলাম। রাতের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। সকালে জমিতে এসে মনে হয়েছে, যেন বুকের ভেতর থেকে সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সেচ দেব কী দিয়ে?”
আরেক কৃষক বলেন, “ধানের জমিই আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। মোটর না থাকলে সেচ দিতে পারব না, আর সেচ না হলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছি।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সেচ মোটর চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত বুধবারও পৌর সদরের খামার নাচকৈড় এলাকার দুখা ফকিরের মোড়সংলগ্ন মাঠ থেকে একটি সেচ মোটর চুরি হয়। তবে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত চোরচক্রকে আইনের আওতায় এনে চুরি হওয়া সেচ মোটর উদ্ধার, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং কৃষি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















