দেয়াল ফুটো করে ৫ লাখের শুঁটকি লোপাট: চোর ও ক্রেতা সিন্ডিকেট দমনে ব্যবসায়ীদের আলটিমেটাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজারে একটি শুঁটকির গুদামের দেয়াল সুকৌশলে ফুটো করে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে একটি দুর্ধর্ষ চোরচক্র। এই অভিনব চুরির ঘটনায় আনন্দবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পলাশ দাস বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনন্দবাজারের ৪ নং ওয়ার্ডের ‘সততা এন্টারপ্রাইজ’-এর পেছনের গুদামের পূর্ব পাশের দেওয়ালে দীর্ঘদিন ধরে চোরচক্রটি অতি সূক্ষ্মভাবে একাধিক ফুটো তৈরি করে। এরপর গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ১০:২০ ঘটিকায় তারা গুদামের ভেতরে ঢুকে মাটির কলসভর্তি শুঁটকি লুটে নেয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পলাশ দাস জানান, চুরির কারণে তাঁর প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে চোরের অবয়ব দেখা গেলেও মুখ স্পষ্ট না থাকায় তাৎক্ষণিক সনাক্ত করা যায়নি। তবে অতীতে চুরির দায়ে হাতেনাতে ধরা পড়া স্থানীয় শিপন দাসের ওপরই বাদীর মূল সন্দেহ।
এদিকে এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বাজারে ব্যবসা করা সন্তোষ দাস সহ অন্য ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “শুধু চোর ধরলে অপরাধ থামবে না! চোর যার কাছে এই চোরাই মালামাল বিক্রি করে—তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। চোরাই মাল যে কেনে সে-ও সমান অপরাধী। উভয়েরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, চোরাই মালের ক্রেতা বা “রিসিভার সিন্ডিকেট” বাজারে সক্রিয় থাকার কারণেই চোরেরা বারবার এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস পাচ্ছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে চোর এবং চোরাই মালের ক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তের ভার এস আই সঞ্জীত দাসের কাছে অর্পণ করা হয়েছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সঞ্জীত দাস জানান, “আমি বর্তমানে ছুটিতে বাড়িতে আছি। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”













