সুনামগঞ্জে হাওর পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল, পানি নিষ্কাশনে সহায়তা ও নির্দেশনা
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলমান জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তিনি জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের মাছিমপুর ও ইসহাকপুর স্লুইসগেট এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাওরের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে ১ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ছোট-বড় ৯৫টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে অকাল বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির চাপের কারণে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলার বিভিন্ন হাওর—দেখার, কানলার, করচার, খাই, পাখিমারা, ছায়ার, হালির, পাগনার, শনির ও মাটিয়ান হাওরসহ একাধিক এলাকায় ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাখিমারা হাওরের কৃষক ছাত্তার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং উজানের পানির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কৃষকের ফসল রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।














