খোলা ম্যানহোল নিয়ে জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে প্রশংসিত কালবেলার তরুণী সাংবাদিক পাপরি হালদার
যেখানে অন্যরা দেখেছেন ম্যানহোল, পাপরি দেখেছেন মানুষের জীবনের ঝুঁকি
শহর কিংবা গ্রাম জনসাধারণের চলাচলের পথে খোলা ম্যানহোল নতুন কোনো দৃশ্য নয়। অনেক সময় চোখের সামনে থাকা এমন বিপজ্জনক বিষয়কেও আমরা নিত্যদিনের বাস্তবতা হিসেবে এড়িয়ে যাই। অথচ সামান্য অসতর্কতা কিংবা অন্ধকারে একটি খোলা ম্যানহোলই হয়ে উঠতে পারে গুরুতর দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানির কারণ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিকেই সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে সামনে এনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন জনপ্রিয় গণমাধ্যম কালবেলা-এর তরুণী সাংবাদিক পাপরি হালদার।
সম্প্রতি কালবেলায় প্রকাশিত পাপরি হালদারের একটি প্রতিবেদনে খোলা ম্যানহোলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে তৈরি হওয়া ঝুঁকি এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে। সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকদের অনেকেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকটির প্রশংসা করেন।
প্রতিবেদনটির মূল আলোচনায় ছিল জনবহুল এলাকায় খোলা ম্যানহোল পড়ে থাকলে পথচারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসতর্ক যেকোনো মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দিনের পর দিন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে ম্যানহোল খোলা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে একটি ছোট অব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে বড় ধরনের জননিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়।
পাপরি হালদারের প্রতিবেদনের বিশেষত্ব ছিল, তিনি বিষয়টিকে কেবল একটি খোলা ম্যানহোল হিসেবে দেখেননি; বরং এর সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং জনসচেতনতার বিষয়গুলোকে সম্পৃক্ত করেছেন। ফলে সাধারণ একটি দৃশ্যও সংবাদমূল্য পেয়েছে এবং মানুষের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করেছে।
সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেন, সাংবাদিকতার গুরুত্ব শুধু রাজনৈতিক, অপরাধ কিংবা বড় কোনো জাতীয় ঘটনার সংবাদ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় যে সমস্যাগুলো নীরবে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি তৈরি করে, সেগুলো তুলে ধরাও একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাপরি হালদারের প্রতিবেদন সেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, স্থানীয় পর্যায়ের এমন ছোট ছোট সমস্যাকে গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ে। একটি সংবাদ যদি কোনো সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে কিংবা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উদ্বুদ্ধ করে, তাহলে সেটিই হয়ে ওঠে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতার সার্থকতা।
খোলা ম্যানহোলের মতো আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ একটি বিষয়কে সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ব্যাপক মানুষের আলোচনায় নিয়ে আসা তাই শুধু একটি প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনা নয়; এটি জননিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকারও একটি উদাহরণ। পাপরি হালদারের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী দৃষ্টি থাকলে ছোট একটি সমস্যার মধ্যেও বড় জনস্বার্থের বিষয় খুঁজে বের করা সম্ভব।
সাংবাদিকতার মূল শক্তি যে শুধু বড় খবরের আকারে নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়কে যথাযথভাবে তুলে ধরার মধ্যেও নিহিত পাপরি হালদারের এই প্রতিবেদন তারই প্রতিফলন। এমন দায়িত্বশীল ও জনমুখী সাংবাদিকতা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের আরও বেশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













