বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটে হবে লড়াই, অপরজনেরা জামানত ঝুঁকিতে

মিয়া সুলেমান, ইশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২০ পিএম
নতুন দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটে হবে লড়াই, অপরজনেরা জামানত ঝুঁকিতে

ছবি- ফাইল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসন এখন নানামুখী জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। চার প্রার্থীর লড়াইয়ে দুজন সাবেক এমপি থাকলেও ভোটের মাঠে আলোচনায় বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির তিনবারের সাবেক এমপি জামানত হারাতে পারেন বলেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এই আসনে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে থাকা এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ নূরুল কবির ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল ইমাম। এই চার প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি ও এলডিপির প্রার্থী। মূলত নতুন প্রার্থীর মধ্যেই সম্ভাব্য ভোটের লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৩ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন এবং পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত ৩ হাজার ১৩১ জন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা এখন পুরোদমে গণসংযোগে ব্যস্ত। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিনই তারা ছুটে বেড়াচ্ছেন হাটে-বাজারে, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক সংস্কার, কৃষির আধুনিকীকরণ থেকে শুরু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের মতো নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। মিছিল-মিটিং, উঠান বৈঠক, শোডাউন করছেন। এ ছাড়া সকাল-সন্ধ্যা পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান নির্বাচনী আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম।

স্থানীয় একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ১৯৮৮ সালে প্রথমবার এমপি হন। এরপর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে এমপি হন। টানা দুই মেয়াদে এমপি থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দূরের কথা, তাকে চোখের দেখাও দেখেনি ভোটাররা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার বলেন, পূর্বের মতো তিনি আর এমপি হতে পারবেন বলে মনে হয় না।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে ফখরুল ইমাম বলেন, এটা ঠিক যে, আমাকে সাধারণ মানুষ ওইভাবে পায়নি। কিন্তু আমার দলের নেতাকর্মীরা তো সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করেছে। আমার সময়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২৫৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে; যা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। তা ছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। এখন বিষয় হচ্ছে জাতীয় পার্টিকে তো একদম বাকরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। দোষ একটাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের সাড়া পাচ্ছি। তবে ফলাফল কি হয় বলা মুশকিল।’

অন্যদিকে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহ নূরুল কবির। এবারও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দল বদল করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হাতপাখার ভোট চাচ্ছেন সাবেক এই এমপি। তবে দল পাল্টানোয় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা আস্থা হারিয়েছেন বলেও মনে করছেন ভোটাররা।

শাহ নূরুল কবিরের ভাষ্য, গণসংযোগ করতে গিয়ে তাঁর সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা। এর জবাব ১২ তারিখ সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমি এমপি থাকাকালীন এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। এজন্য ব্যক্তি হিসেবে ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে থাকা এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন এবং দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। আলাপকালে সমকালকে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রচুর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। জোটের নেতাকর্মীরাও আমার জন্য কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা, নাগরিক সমস্যা দূর করাসহ নানা সংকটে মানুষের পাশে থাকায় ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘসময় ধরে মানুষের পাশে থেকে সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। মূলত ওই জায়গা থেকেই তাঁর প্রতি মানুষের একটা আস্থা তৈরি হয়েছে। ভোটের মাঠেও তাদের এই আস্থা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পেলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সন্তানের জন্মদিন ও দাদার মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

সন্তানের জন্মদিনের আনন্দকে মানবসেবায় উৎসর্গ এবং প্রয়াত দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বাদ আসর থেকে বাদ এশা পর্যন্ত নাগরপুর বাজারে অবস্থিত মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম. এ. মান্নানের ছোট ছেলে মাহিরের চতুর্থ জন্মবার্ষিকী এবং তাঁর দাদা, বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক অনুরাগী মরহুম আইয়ূব আলীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা (ব্লাড সুগার), রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ওজন পরিমাপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে এসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. এম. এ. মান্নান। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ ও স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজক ডা. এম. এ. মান্নান বলেন, মহান আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। সন্তানের জন্মবার্ষিকীকে মানুষের সেবার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা এবং মরহুম দাদার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলে মাহির, বড় ছেলে মুকতাদির এবং ভাতিজি মাছুমার সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পাশাপাশি মরহুম দাদা আইয়ূব আলী, নানা আজমত আলী, চাচা কাইয়ূম এবং প্রয়াত দাদি ও নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র নাগরপুর বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করা।

মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

আসাদুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
মিরপুরে এইচএসসিতে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে সাফল্য ধরে রেখে আবারও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এবার কলেজটি থেকে মোট ১৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পাসের হার ৬২ শতাংশ। বস্তুনিষ্ঠ ও গুণগত শিক্ষার ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষায় উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে অবস্থান তৈরি করে আসছে। শুধু উপজেলা পর্যায়ই নয়, ইতিপূর্বে ২০০৯, ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যেও প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব দেখিয়েছিল কলেজটি। তারই সুসংহত ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও উপজেলার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলো সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ।
প্রতিষ্ঠানের এই চমকপ্রদ সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- “আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় আল্লাহর অশেষ রহমতে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফলের জন্য আমি সমগ্র এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুধীজনদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

মোঃ জুয়েল মিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
মানিকগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলের অভিযোগ

 

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনালে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় জোরপূর্বক দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঃ কাদের ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ রাজা মিয়া (৫৬)।

​বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অনুমোদিত মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর থেকে তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন ককটেল, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তা দখলের চেষ্টা চালায়।

​অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় আঃ কাদের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসস্ট্যান্ডের পৌর টার্মিনাল এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। একই সময়ে ২ নম্বর অভিযুক্ত সুমন ধারালো চাপাতি দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ভাঙচুর ও তছনছ করেন। হামলাকারীরা সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কার্যালয়টি জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে কেউ প্রবেশ করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।

​এ ঘটনায় নিজের ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদেরের মতামত চাওয়া হলে তিনি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।

​মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।