ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্ৰেপ্তার

সারাদেশ

বন্যা মোকাবিলায় সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান

রাজনীতি

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে উত্তাল দেশ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দুঃখ প্রকাশ ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের শাড়ি দেশ ও বিদেশে রয়েছে বেশ কদর

লাইফস্টাইল

প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটে হবে লড়াই, অপরজনেরা জামানত ঝুঁকিতে

মিয়া সুলেমান, ইশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসন এখন নানামুখী জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। চার প্রার্থীর লড়াইয়ে দুজন সাবেক এমপি থাকলেও ভোটের মাঠে আলোচনায় বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির তিনবারের সাবেক এমপি জামানত হারাতে পারেন বলেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এই আসনে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে থাকা এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ নূরুল কবির ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল ইমাম। এই চার প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি ও এলডিপির প্রার্থী। মূলত নতুন প্রার্থীর মধ্যেই সম্ভাব্য ভোটের লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৩ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন এবং পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত ৩ হাজার ১৩১ জন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা এখন পুরোদমে গণসংযোগে ব্যস্ত। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিনই তারা ছুটে বেড়াচ্ছেন হাটে-বাজারে, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক সংস্কার, কৃষির আধুনিকীকরণ থেকে শুরু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের মতো নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। মিছিল-মিটিং, উঠান বৈঠক, শোডাউন করছেন। এ ছাড়া সকাল-সন্ধ্যা পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান নির্বাচনী আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম।

স্থানীয় একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ১৯৮৮ সালে প্রথমবার এমপি হন। এরপর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে এমপি হন। টানা দুই মেয়াদে এমপি থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দূরের কথা, তাকে চোখের দেখাও দেখেনি ভোটাররা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার বলেন, পূর্বের মতো তিনি আর এমপি হতে পারবেন বলে মনে হয় না।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে ফখরুল ইমাম বলেন, এটা ঠিক যে, আমাকে সাধারণ মানুষ ওইভাবে পায়নি। কিন্তু আমার দলের নেতাকর্মীরা তো সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করেছে। আমার সময়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২৫৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে; যা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। তা ছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। এখন বিষয় হচ্ছে জাতীয় পার্টিকে তো একদম বাকরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। দোষ একটাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের সাড়া পাচ্ছি। তবে ফলাফল কি হয় বলা মুশকিল।’

অন্যদিকে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহ নূরুল কবির। এবারও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দল বদল করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হাতপাখার ভোট চাচ্ছেন সাবেক এই এমপি। তবে দল পাল্টানোয় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা আস্থা হারিয়েছেন বলেও মনে করছেন ভোটাররা।

শাহ নূরুল কবিরের ভাষ্য, গণসংযোগ করতে গিয়ে তাঁর সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা। এর জবাব ১২ তারিখ সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমি এমপি থাকাকালীন এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। এজন্য ব্যক্তি হিসেবে ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে থাকা এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন এবং দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। আলাপকালে সমকালকে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রচুর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। জোটের নেতাকর্মীরাও আমার জন্য কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা, নাগরিক সমস্যা দূর করাসহ নানা সংকটে মানুষের পাশে থাকায় ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘসময় ধরে মানুষের পাশে থেকে সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। মূলত ওই জায়গা থেকেই তাঁর প্রতি মানুষের একটা আস্থা তৈরি হয়েছে। ভোটের মাঠেও তাদের এই আস্থা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পেলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ঢুলিভিটা, ধামরাই, ঢাকা

প্রিন্ট করুন