শান্তিগঞ্জে থলেরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নস্থ থলেরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন কার্যত অভিভাবকহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের চরম অনিয়ম, সময়জ্ঞানহীনতা এবং পাঠদানে অনীহার কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। বিদ্যালয়টির এই বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ইতিমধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা সরকারি বিধিমালা তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। তারা অধিকাংশ দিন দেরিতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং দুপুরের বিরতির পরপরই অলিখিতভাবে ছুটির আমেজ তৈরি করে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় বসে থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তারা জানায়, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও ক্লাসে যাওয়ার বদলে অফিস কক্ষে আড্ডা দিতে বেশি পছন্দ করেন। অনেক সময় তারা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, ফলে পাঠদান কার্যক্রম থমকে দাঁড়িয়েছে। হাবিজুর রহমান নামের একজন বিক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, “স্কুলে পাঠিয়ে আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। শিক্ষকরা পড়ানোর চেয়ে নিজেদের গল্প-গুজব নিয়ে বেশি ব্যস্ত। আমাদের সন্তানরা ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞান পর্যন্ত লাভ করতে পারছে না। এটা কোনো স্কুল নাকি আড্ডার জায়গা?”
স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষকের নিজেরই কোনো সময়জ্ঞান নেই। ফলে সহকারী শিক্ষকদের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি কাজ করছে না। বিদ্যালয়ের এই ভয়াবহ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সচেতন অভিভাবক তাদের সন্তানদের নাম কাটিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে সরকারের ‘সবার জন্য শিক্ষা’ স্লোগানটি এই এলাকায় চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
অনতিবিলম্বে এই অরাজক পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। তারা দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকরা যদি মানুষ গড়ার কারিগর না হয়ে ফাঁকিবাজিতে লিপ্ত হন, তবে সমাজ অন্ধকারের দিকে যাবে।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুম মিয়া বলেন, “আমরা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি। শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে যদি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।













