বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তুলছে আলোকিত মানুষ; জাতীয়করণের পরও ধরে রেখেছে ঐতিহ্য ও শিক্ষার উৎকর্ষ।

নাগরপুরের গর্ব সরকারি যদুনাথ পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২৬ বছরের পথচলা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম
নাগরপুরের গর্ব সরকারি যদুনাথ পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২৬ বছরের পথচলা

ছবি: সকালের বার্তা

লৌহজং নদীর তীরে গড়ে ওঠা টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বাতিঘর সরকারি যদুনাথ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ১৯০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টানা ১২৬ বছর ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। শতবর্ষের গণ্ডি পেরিয়ে আজও প্রতিষ্ঠানটি নাগরপুর তথা টাঙ্গাইল জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গৌরবময় বিদ্যাপীঠ হিসেবে নিজস্ব মর্যাদা ধরে রেখেছে।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে নাগরপুর অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের জন্য আধুনিক শিক্ষার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্যে ১৯০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বাবু যাদবলাল চৌধুরী, হরিলাল চৌধুরী ও কিশোরী চন্দ্র প্রামাণিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় বাঁশ ও ছন দিয়ে নির্মিত একটি অস্থায়ী ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাবু মুকুন্দলাল চক্রবর্তী (বি.এ.)।
তবে প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যেই বিদ্যালয়টি তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরপুরের বিশিষ্ট জমিদার রায় বাহাদুর সতীশচন্দ্র চৌধুরী বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সংকটমুক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় কাকা যদুনাথ চৌধুরী-এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ের নামকরণ করেন ‘নাগরপুর যদুনাথ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়’। উল্লেখ্য, যদুনাথ চৌধুরী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না; তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ নামকরণ করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারিত হলে প্রতিষ্ঠানটি ‘সরকারি যদুনাথ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ও ফলাফলে বিশেষ সুনাম অর্জন করে। ১৯১১ সালে এই বিদ্যালয় থেকে প্রথম এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন কাটরিনীবাসী যোগেশ চন্দ্র নিয়োগী। তাঁর এই সাফল্যে আনন্দিত হয়ে রায় বাহাদুর সতীশচন্দ্র চৌধুরী তাঁকে সংবর্ধনা দিয়ে নাগরপুর প্রদক্ষিণ করান এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন। এই বিদ্যাপীঠের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক ও ভারতরত্ন ড. বিধানচন্দ্র রায়, ডা. ব্রজবল্লভ সাহা এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক গিরিজাশংকর রায়চৌধুরী-সহ বহু গুণী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি।
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ পথচলায় এসেছে নানা চড়াই-উতরাই। ১৯১৭ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বিক্রমপুরের শিক্ষাবিদ বাবু সুরেশচন্দ্র চ্যাটার্জি (এম.এ.)। পরবর্তীতে তিনি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯২১ সালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র রমেশচন্দ্র চ্যাটার্জি (বি.এ.)। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। কিন্তু ১৯৩০ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের মূল ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র পুড়ে যায়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠিত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৮৬৩ জন ছাত্র এবং ৪৫০ জন ছাত্রী। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ৩৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। এছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ ঘোষিত হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশরা আমিরা বলেন, “সরকারি যদুনাথ পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়তে পেরে আমি গর্বিত। এখানকার শিক্ষকরা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষাও দেন। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান বলেন, “১২৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আধুনিক শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।”বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নারায়ণ শীল (বি.কম., বি.এড.) বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থা সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সরকারি যদুনাথ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের অগ্নিকাণ্ডসহ নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানটি আজ ১২৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী। এই ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্ব বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই বিদ্যাপীঠ ভবিষ্যতেও তার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে।”প্রতিষ্ঠানের (ভারপ্রাপ্ত )প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, “১২৬ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমাদের কৃতি শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছি। সরকারি ও স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে আগামীতেও এই প্রতিষ্ঠান নাগরপুর তথা দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তার মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে।” দীর্ঘ চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও শুভকামনা করেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসীর মতে, সরকারি যদুনাথ পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি নাগরপুরের শিক্ষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। ১২৬ বছরের এই গৌরবময় বিদ্যাপীঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি ও স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।

চৈতন্যের হাট আবৃরহাট আহমদ কবির সড়কের উদ্বোধন বিএনপি থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে সমাবেশে বক্তারা

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
চৈতন্যের হাট আবৃরহাট আহমদ কবির সড়কের উদ্বোধন বিএনপি থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে সমাবেশে বক্তারা

‎বহু প্রতিক্ষিত সড়ক চৈতন্যের হাট আবুরহাট সড়কের উদ্বোধন হয়েছে। আজ ১৫ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার ৮নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের চৈতন্যের হাটে এই উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎ ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মো: জসিম উদ্দিন, এবং ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য আজিজুল হক মেম্বারের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনের মাননীয় এমপি ও সদস্য, ধর্ম বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব, নুরুল আমিন এমপি মহোদয়।

‎এতে আরো উপস্থিত ছিলেন : উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওলিউল কবির ইকবাল, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুল হক চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান,

‎বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জনাব আফছার চেয়ারম্যান, বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জনাব জমির উদ্দিন সহ জেলা উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‎এ সময় সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারী বিএনপিকে জয়যুক্ত করার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, মানুষ এখন শান্তিতে ঘুমাইতে পারতেছে। মিরসরাইতে কোন সড়ক সংস্কার বিহীন থাকবে না, উপজেলার প্রত্যেকটি সড়ক সংস্কারের আওতায় আসবে।

‎এ সময় বক্তব্য এমপি বলেন, আমরা মিরসরাইকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গত ৫ আগষ্টে ভারতে লুকিয়ে থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ তারা বলেছে ডিসেম্বরে আসবে এই ডিসেম্বর না কোন ডিসেম্বরে আসতে পারবেনা। আসছে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দল যাকে প্রার্থী দিবে তাকে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান এমপি। সড়কের কাজে সকলকে আন্তরিকতা সহিত সহযোগীতা করার আহবান জানান, এমপি নুরুল আমিন এমপি মহোদয়।

‎এতে আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জনাব, ফখরুল ইসলাম ভূইয়া, জেলা ছাত্রদলের সম্মানিত সদস্য মো: জিসান, ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি সভাপতি তানভীরুল আজিজ তাসিফ সাধারণ সম্পাদক, মো: জিসান সহ জেলা উপজেলার বিএনপি, ছাত্রদল এবং যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

‎সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন, মিরসরাই উপজেলা আহবায়ক, আব্দুল আওয়াল।

ধামরাইয়ে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টায় দুই ভাইসহ ৩ জন আহতের অভিযোগ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ধামরাইয়ে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টায় দুই ভাইসহ ৩ জন আহতের অভিযোগ

ঢাকার ধামরাইয়ে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে জলিল, আরিফ, জমির আলী ও জিহাদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আব্দুল গফুর, তার ভাই আব্দুর সফুর এবং গফুরের দুই ছেলে আওলাদ ও ওয়ারেছ আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কাটাবই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল গফুর ও তার ভাই আব্দুর সফুর ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে জমির আলীসহ কয়েকজন বিভিন্ন সময় জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর জমির আলী, আরিফ, জিহাদসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে ওই বসতবাড়িতে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় তারা করাত, চাপাতি, ছেন ও দা জাতীয় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বসতবাড়ির আঙিনায় থাকা কয়েকটি ফলজ গাছ কেটে ফেলে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

এ সময় আব্দুল গফুর ও তার দুই ছেলে আওলাদ এবং ওয়ারেছ বাধা দিলে তাদের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তারা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জমির আলী। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ওই জমির মালিক তারা। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তারা জমিতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। পরে তারা সেখান থেকে চলে আসেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে ধামরাই থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বসতবাড়িতে হামলা, গাছপালা কাটা বা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা হলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউ দারুল ইহসানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কুইজ, শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

সকালের বার্তা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
নিউ দারুল ইহসানে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কুইজ, শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে -এ দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ইসলামি কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ইসলামি জ্ঞানচর্চা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নিউ দারুল ইহসান ক্যাডেট স্কুল এন্ড মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আবু জাফর।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রাইম টিভি ৭২-এর উপদেষ্টা ও দৈনিক সকালের বার্তা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল জলিল।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ইসলামি জ্ঞান অর্জন, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের আগ্রহ যেমন বাড়ে, তেমনি তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতাও তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও ইসলামি জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।